চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনসহ সবকটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নতুন নিয়মে গৃহকর পুনঃমূল্যায়নের নিয়ে সৃষ্ঠ জটিলতায় বিশেষ করে স্থাপনার ভিত্তিতে কর মূল্যায়ন না করে ভাড়ার ভিত্তিতে কর মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেয়ায় ক্যাবসহ বাড়ীর মালিক, ভাড়াটিয়া, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমুহের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি হয়। বিশেষ করে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারনের কারনে ভাড়াটিয়াদের অযৌক্তিকভাবে বাড়ীভাড়া বাড়ানোর নোটিশ প্রদান শুরু করেন বাড়ীর মালিকরা। যার ফলে সীমতি আয়ের জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি হয়। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিদের্শনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিটিকর্পোরেশন সমুহকে নতুন নিয়মে গৃহকর পুণঃমূল্যায়ন স্থগিত রাখার নির্দেশনা প্রদান করায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার সচিচের কাছে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত বার্তায় ক্যাব নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন নগরীতে বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের ডিজিটাইজড ডাটাবেস নিশ্চিত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স সহ অন্যান্য ট্যাক্স আদায়ে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির মাত্রা কমবে। তাই সিটিকর্পোরেশন গৃহ কর আদায়ে নোটিশ প্রদান প্রক্রিয়া, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন, আদায় ইত্যাদি সব প্রক্রিয়া ডিটিজাইজড করা হলে এখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে।
ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ক্যাব মাননীয় মেয়রের সাথে বেশ কয়েকবার মতবিনিময়ের সময় সিটিকর্পোরেশনের কর ব্যবস্থাপনায় ত্রæটির কথা উত্থাপন করা হয়েছিলো। ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সিটিকর্পোরেশন এর রাজস্ব বিভাগের লোকজন বিভিন্ন বাড়ীর মালিককে বিশাল বিশাল অংকের হোল্ডিং ট্যাক্স এর নোটিশ দিয়ে থাকেন এবং আপত্তি থাকলে কর্পোরেশনে গিয়ে আপিল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেখানে আপোষ রফায় নোটিশের ১/৩ ভাগ বা যে যেভাবে পারে রাজস্ব বিভাগের সং¯িøষ্ঠ সকলকে খুসি করতে পারলেই এখান থেকে রেহাই পাওয়া যায়। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নীতিমালা অনুসরণ না করে ১০ গুনের বেশী হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের নোটিশ দিয়ে পরবর্তীতে আপোষের মাধ্যমে তা নিস্পত্তি করা হয়। মেয়রের নেতৃত্বে রিভিউ বোর্ডেও এ ধরনের অতিরিক্ত কর নির্ধারন করে টোটিশ প্রদানের প্রতিফলন ঘটেছে। যার কারনে নগরবাসীর মনে হোল্ডিং ট্যাক্স আতংক বিরাজমান ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপে জনমনে স্বস্তি শুরু হয়েছে। তাই এখন প্রয়োজন স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা অনুসারে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রক্রিয়া ডিজিটাইজড করা, বাড়ীর মালিকরা যেন অযৌক্তিভাবে ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা না করেন সেটি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সিটিকর্পোরেশনের কর বিভাগের প্রতি নগরবাসীর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরী।
ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন কর আদায় নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বারবার উত্থাপন করা হয়েছে কর আদায়ে জনগনের অনীহা এবং কর আদায়ের হার ২৫% বেশী নয়। তার পরও প্রতিবছর কর মূল্যায়ন করে নতুন করে কর নির্ধারনের চেয়ে ধার্য্যকৃত কর আদায়ে সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর আদায় ব্যবস্থায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ক্যাব বারবার বলে আসছিলো নগরবাসী সিটিকর্পোরেশনের কাছ থেকে কাংখিত সেবা না পেলে জনগন করপ্রদানে আগ্রহী হবে না। একই সাথে সিটিকর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহন নিশ্চিত না হলেও জনগন করপ্রদানে আগ্রহী হবে না। তার সাথে আদায়কৃত করের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। এ জন্য নগর প্রশাসনে বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় জনগনের অংশগ্রহন যেভাবে সংকুচিত হচ্ছে তেমনি সিটিকর্পোরেশনের তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নগরবাসী স্বচ্ছ ধারনা পাচ্ছে না। যার কারনে সিটিকর্পোরেশন ও নাগরিকদের মাঝে দুরত্ব ক্রমশঃ বাড়ছে। যা আধুনিক ও উন্নত নগর প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় প্রতিবন্ধক।
নেতৃবৃন্দ নগর জুড়ে ভাঙ্গা রাস্তা নগরবাসীর জন্য যেমনি যন্ত্রণার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে তেমনি যত্রতত্র ময়লার স্তুপ পুরো নগরী যেন আবর্জনার ডিপোতে পরিনত হয়েছে। নগর জুডে ধুলাবালির যন্ত্রণায় সর্দি, কাশি, হাপানী ও শ্বাস কষ্ঠের প্রার্দুভাব অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগরিক সেবা প্রদানে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলি সমন্বয়ের অভাবে বিকল্প ব্যবস্থা না করে যে যেভাবে পারে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলি নগরবাসীর জন্য আর্শীবাদ না হয়ে অভিশাপে পরিনত হয়েছে। অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী না করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা, সিংহভাগ জনগোষ্ঠির কথা চিন্তা না করে গুটি কয়েক লোকের কথা চিন্তা করে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করায় সাধারন জনগন এ সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। যার দায় ভার সিটি কর্পোরেশনের উপর পড়ছে।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা প্রমুখ।



