ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দোদুল্যমানতা ছেড়ে আপনারা বিএনপিতে আসুন। আসলে দেখতে পাবেন বিএনপি না আওয়ামী লীগ-কারা ন্যারো মাইন্ডের (সঙ্কীর্ণমনা) দল।’
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ধারণা, তাদের ছাড়া আপনাদের কোনো গতি নেই। কিন্তু আপনারা যে এটা বুঝতে পেরেছেন, এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই। আজকে দেশের মানুষের একটাই পরিচয়। তা হল-আমরা বাংলাদেশি। আমরা সমান অধিকার নিয়ে সকলে মিলেমিশে এদেশে বসবাস করব।’
সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকে সারা দেশে অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে তারা। একটা অপরাধকে ঢাকতে তারা আরেকটা অপরাধ করছে। কোনো সময় কারো বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া কিংবা জায়গা-জমি দখল করায় আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা সমান সম্পর্কে বিশ্বাস করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা বিশ্বাস করে না।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দুদের সম্পত্তি এই আওয়ামী সরকারের লোকজনই দখল করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এটাকে অপরাধ মনে করে না। আর অপরাধ করেও অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দ্বিধা করে না তারা।’
বর্তমান সরকারের আমলে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয় বলে উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় হিন্দুদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাদের জন্য কিছুই করেনি। অথচ আমরা মন্দির সংস্কার করেছি, মন্দিরভিত্তিক পাঠাগার করেছি, মন্দিরে বরাদ্দ দিয়েছি।’
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘এ নির্বাচন কমিশন অপদার্থ ও মেরুদণ্ডহীন। তাই এই কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’ দেশে বর্তমানে এক কোটির উপর ভুয়া ভোটার রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন একটি খেলা। তাই আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলেছি। কারণ, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভালো এবং শান্তি চাইলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বরে ডাকা সংসদ অধিবেশনে নির্দলীয় সরকারের বিল পাস করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই বিজয়ী হবে। তাছাড়া বিদেশিরাও বলেছে, সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় তারা।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও-পোড়াও করব না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে আস্থা আরো বাড়বে এবং সম্পর্ক আরো গভীর হবে।’
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘যে ধর্মেরই লোক হোক না কেন, আগামী দিনে দল গঠনে যোগ্যতা ও মেধার মূল্যায়ন করতে হবে। এমনকি যদি কারো দলের মহাসচিব হওয়ার মতো যোগ্যতা থাকে তাহলে সেটাও বিবেচনা করা উচিত।’
ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কারো ভোট ব্যাংক নয় বলে উল্লেখ করে পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপারসনের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যে নতুন ধারার সরকার গঠনের কথা বলেছেন, ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৬০টি আসনে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ূয়া, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরুণ দে প্রমুখ।
এছাড়া টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, বরিশাল, যশোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওসহ ২০টি জেলা থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন




