ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির ক্ষমতায় ফিরে আসার ঝুঁকি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ধর্মের নামে বিরোধী দলের অপপ্রচার সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্যাপক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হাত থেকে মুক্তিপ্রদান এবং আবারও তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়ার বিরোধী দলের নীল নকশা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।রবিবার প্রধানমন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও আহত এবং মৃত সাংবাদিকদের পরিবারবর্গের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণের সময় এসব কথা বলেন।সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে দেশ পরিচালনা করবে কারা? তারা কি মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তি, না যুদ্ধাপরাধী… জাতির কাছে আজ এটা এক বিরাট প্রশ্ন।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু বিএনপি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেছিল। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে কি-না? এ নিয়ে জনগণ আজ ভীষণ শঙ্কিত।’তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি আমাদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একদিকে তারা অধর্মের কাজ করছে এবং অপরদিকে ধর্মের নামে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’তিনি প্রশ্ন করেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে তারা কিভাবে মিথ্যাচার করতে পারে এবং বিরোধী দলের নেতা বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে পরামর্শ দিয়ে নিবন্ধ লিখতে পারে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হেফাজতের ৬১ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ‘অধিকার’ যে দাবি করেছে। কিন্তু নিহতদের নাম তারা প্রকাশ করতে পারে নি বরং সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামপ্রতিক একটি বক্তব্য বিকৃত করে বিভ্রান্তি ছড়াবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’ তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব করেন এবং সরকারি-বেসরকারি খাত থেকে তহবিল সংগ্রহে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য আব্দুল্লাহপুরে জমি বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতা ভোগ করার ক্ষেত্যে দায়িত্ববান হওয়া অপরিহার্য। তিনি বলেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার সময় অন্যদের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়- সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের জন্য একটি যথাযথ নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মিডিয়ার জন্য প্রত্যেক দেশের নিজস্ব আইন রয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রীকে যত দ্রুতসম্ভব এই নীতি প্রণয়নের নির্দেশ দেন।তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের আমলে গঠিত এক কোটি টাকার তহবিল থেকে এ বছর ১৫৮ জন অসুস্থ, অসচ্ছল ও আহত সাংবাদিক এবং মৃত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তাদের ৫৩ জন আজ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক গ্রহণ করেন।তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজে’র মহাসচিব আবদুল জলিল ভূইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র সভাপতি ওমর ফারুক, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ ও তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদ বক্তব্য রাখেন।




