রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পাওয়া কোনো আসামির কারাভোগ শেষে অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজ করতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। অর্থদণ্ড পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়াই আসামির প্রতিনিধি বা আত্মীয়স্বজন আসামির কারাদণ্ড শেষ হওয়ার আগে বা পরে সরাসরি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে আসামিকে মুক্তি দেবেন। আগে এ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে হতো। কারা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজীকরণ বিষয়ে এমন নির্দেশনা দিয়ে মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থদণ্ড ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর চালানের কপি কারাবন্দী যে কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন, সরাসরি সেই কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ ট্রেজারি চালান পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অনলাইনে বা টেলিফোনের মাধ্যমে চালানটির সত্যতা এবং সাজা পরোয়ানায় উল্লিখিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ যাচাই করবেন। এ ক্ষেত্রে আরোপিত সমুদয় অর্থদণ্ড পরিশোধিত হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে বিধি অনুসারে বন্দীকে মুক্তি দেবেন এবং অর্থদণ্ড পরিশোধ ও কারাবন্দীকে মুক্তি প্রদানের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে অবহিত করবেন।

হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রায় প্রদানকারী আদালত যে জেলায় অবস্থিত বা যে জেলার কারাগারে আসামি অবস্থান করছেন, সেই জেলার ওই ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া যাবে।

বিজ্ঞপ্তির শুরুতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে, সাধারণত অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে বা শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড পরিশোধে আগ্রহী হন। বিদ্যমান কারাবিধি অনুযায়ী, কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর অর্থদণ্ড সরাসরি পরিশোধের সুযোগ না থাকায় সাজাপ্রাপ্ত অধিকাংশ কারাবন্দীর প্রতিনিধি বা নিকট আত্মীয়দের পক্ষে আদালতে গিয়ে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সহজসাধ্য হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হয়, মামলার নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না, ক্ষেত্রভেদে ঊর্ধ্বতন আদালতে নথি পাঠানোর কারণে তা সংশ্লিষ্ট আদালতে সংরক্ষিত থাকে না—এসব কারণে সহজে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

আবার দণ্ড প্রদানকারী আদালত থেকে কারাবন্দী দূরবর্তী ভিন্ন জেলার কোনো কারাগারে আটক থাকলে বা তাঁর আত্মীয়স্বজন দূরে বসবাস করলে অর্থদণ্ড পরিশোধ কষ্টসাধ্য, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এসব জটিলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কারাবন্দীরা সময়মতো অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পেরে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করেন। ফলে বন্দীর কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়। সরকারের ব্যয় বাড়ে এবং কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

এই বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি আইজি প্রিজন, দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সব কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ