রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অর্থমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম চেম্বারের ৫...

চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অর্থমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম চেম্বারের ৫ দফা সুপারিশ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে গুচ্ছ প্রস্তাবনা পেশ করেছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, এই বিমানবন্দরকে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট এভিয়েশন’ এবং ‘ট্যুরিজম ও লজিস্টিক গেটওয়ে’ বা ‘ব্রিজিং পয়েন্ট’ হিসেবে রূপান্তর করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ওই গুচ্চ প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার জন্য চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রধান ৫টি সুপারিশ হলো- চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে সার্বক্ষণিক বা ২৪/৭ সচল রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রী ও কার্গোর জন্য ৪০ শতাংশ প্রেফারেন্সিয়াল ট্যারিফ নির্ধারণ। দীর্ঘ দূরত্বের বা লং রুট ফ্লাইটের ক্রুদের জন্য বিমানবন্দরে থাকা ও নামার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দূরপাল্লার বা লং হুল ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পিপিপি বা বুট পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি বা সিএফএস স্থাপন করা।

আমিরুল হক চিঠিতে উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শাহ আমানত বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ঢাকা কেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলা গেলে এই চাপ কমানো সম্ভব।

চিঠিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও প্রস্তাবিত বে-টার্মিনালের নিকটবর্তী হওয়ায় বিমানবন্দর সংলগ্ন বিশাল এলাকায় কার্গো ভিলেজ স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা এই অবকাঠামো উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা অন্যান্য বিনিয়োগ পদ্ধতিতে অর্থায়ন করতে আগ্রহী।

ব্যবসায়ী সমাজ আশা করছে, মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যানের মতো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জন্যও একটি প্রতিযোগিতামূলক ট্যারিফ কাঠামো নির্ধারণ করা হলে এটি আন্তর্জাতিক ট্রাফিক আকর্ষণে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যবসায়ী নেতাদের।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ