ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও দলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাকালে অধ্যাপক ইউনূস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনূস সেন্টারের বিবৃতিকে সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসকে হেয় করার কোনো ইচ্ছাই এই সরকারের নেই। বরং ইউনূস সেন্টারই অপপ্রচার করে সরকার ও অধ্যাপক ইউনূসকে বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করেছে। অসমর্থিত ও একটি সংবাদের ভিত্তিতে সরকারপ্রধানকে জনসমক্ষে হেয় করার ইউনূস সেন্টারের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ সরকার জানাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আশা করে ইউনূস সেন্টার “দৈনিক ইত্তেফাক” ও “ডেইলি স্টার”-এ প্রকাশিত বিবৃতিটি প্রত্যাহার করে নেবে এবং এইরূপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকবে। অন্যথায় সরকার ইউনূস সেন্টারের এ ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।’
বাসসের খবরে বলা হয়, ‘ডেইলি স্টার’ এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ প্রকাশিত ইউনূস সেন্টারের বিবৃতির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ইউনূস সেন্টারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গণভবনে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও উচ্চপর্যায়ের দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কিছু মন্তব্য করেছেন মর্মে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে সূত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও বেলারুশ সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদ ও দলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয়েছিলেন। একান্ত ঘরোয়া এ আলোচনার সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে পরদিন ১২ জুলাই অধ্যাপক ইউনূস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি কোনো সূত্র ছাড়া এবং অপর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত।
ইউনূস সেন্টারের প্রতিবাদে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেননি, সেহেতু তাঁর বক্তব্যকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। বস্তুতপক্ষে, ওই দিন গণভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা যেহেতু ঘরোয়া ছিল, সেখানে আলোচিত বিষয়ের ওপর অনুমাননির্ভর অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মনে করেনি। এ ধরনের অসমর্থিত সংবাদ পরিবেশনা সাংবাদিকতার নীতিমালাবিরোধী এবং উদ্দেশ্যমূলক ও অনভিপ্রেত। প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতার বরখেলাপ এবং অপব্যবহার, যা কারও কাম্য নয়।
ইউনূস সেন্টার থেকে আশঙ্কা করা হয়েছে, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার ফলে দুটি বন্ধু দেশ নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে আশঙ্কাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে। কারণ, বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে হয় না। দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঠুনকো নয় যে, পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো ভিত্তির সংবাদে তা নষ্ট হবে। নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ইউনূস সেন্টারের অভিযোগ মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সুসম্পর্ক বিনষ্টের অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ছাড়াও অধ্যাপক ইউনূসকে ভণ্ড প্রমাণ করার পেছনে সরকারের মেধা ও অর্থ ব্যয়ের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।




