রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচান্দগাঁওয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরও তিন ডাকাত আটক

চান্দগাঁওয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরও তিন ডাকাত আটক

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরও তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।  তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকায় মাটি খুঁড়ে ডাকাতদের অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ মার্চ গভীর রাতে তিনজনকে আটকের পাশাপাশি অস্ত্রগুলো উদ্ধার করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। আটক তিনজন হল, আরমান প্রকাশ জিসান, ফজলুল করিম রিংকু এবং মামুন। চান্দগাঁও থানার ওসি আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার নগরী এবং বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন, রায়হান এবং তপন নামে তিনজনকে আটক করেছিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ।  আটকের পর সাদ্দামকে আদালতে সোপর্দ করে রায়হান ও তপনকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান প্রকাশ জিসানকে নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরা সরালিয়া পাড়া এলাকা থেকে, ফজলুল করিম রিংকুকে বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী থেকে এবং মামুনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার মীরপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। এরপর তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে অনন্যা আবাসিক এলাকায় যায় পুলিশ।  সেখানে একটি প্লটের মাঝখানে প্রায় দুই হাত গর্ত খুঁড়ে মাটি ও বালির নিচে রাখা হয়েছিল অস্ত্রগুলো।  পুলিশ গর্ত থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি পয়েন্ট টু টু বোরের পিস্তল এবং চাপাতি, তলোয়ার, ছোরাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে।

চান্দগাঁও থানার ওসি আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির বলেন, ডাকাতদল অস্ত্রগুলো অনন্যা আবাসিক এলাকায় গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল।  সেখান থেকে অস্ত্রগুলো নিয়ে পাশের এলাকা বেপারি পাড়ায় ডাকাতি করেছিল।  এরপর আবারও অস্ত্রগুলো অনন্যা আবাসিক এলাকায় নিয়ে গিয়ে মাটি ও ‍বালিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশ ডাকাতদের কাছ থেকে ডাকাতি করা সব স্বর্ণালংকার, কসমেটিকস, ল্যাপটপ, আয়রণ, টর্চলাইট, চার্জলাইটসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে বলে ওসি জানান। আটক পাঁচজনকে শনিবার দুপুরে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল বেপারি পাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।  পরদিন থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের হয়। মামলার সূত্র ধরে ওইদিন থেকেই পুলিশ ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।  প্রথমে নগরীর ষোলশহর বিবিরহাট এলাকায় তপন নামে এক স্বর্ণের দোকানদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।  তপন ডাকাতদের কাছ থেকে ডাকাতি করা স্বর্ণগুলো কিনেছিল।  তার কাছ থেকে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।  বাকি স্বর্ণালংকার তপন হাজারি লেইনে কারখানায় দিয়ে গলিয়ে নেয়।  ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে গলানো কিছু স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়।

তপনের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেক ডাকাতকে আটক করা হয়।  তার কাছ থেকে ডাকাতি করা কসমেটিকস, মোবাইল, ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। সাদ্দামের দেয়া তথ্যমতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলার জোটপুকুর পাড় থেকে রায়হান নামে আরেক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার তিনজনকে আটকের ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ