রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েপৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপির দাবি নাকচ

পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপির দাবি নাকচ

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিএনপির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো আলামত তো দেখি না। ২২ ডিসেম্বর বিকেলে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সেনা মোতায়েনের দাবি জানায়। পরে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায় কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএনপির সে দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গোয়েন্দাদের যে প্রতিবেদন আমাদের কাছে এসেছে, এতে সেনা মোতায়েনের পরিস্থিতি নেই। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করছি।

সিইসি বলেন, উন্নত বিশ্বে কোনো বাহিনীই মোতায়েন করা হয় না। সেখানে পুলিশও মোতায়েন হয় না। আমাদের এখানে অনেক আগে থেকেই মোতায়েন করা হচ্ছে, কেননা এখানে রাজনৈতিক উন্নয়ন হয়নি। ভারতেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এখানেও রাজনৈতিক উন্নয়ন হবে। তখন রাজনৈতিক নেতারাও একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন, হাসি-ঠাট্টা করবেন। কিন্তু কেউ কারো মাথায় বাড়ি দেবেন না। এখানেও রাজনীতিতে গুণগতমানের উন্নয়ন হবে বলে আশা করি। তখন আমরাও কোনো বাহিনী মোতায়েন করবো না।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর  বিএনপি নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়েও উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয় সাংবাদিকদের। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, সব দলের প্রার্থীরাই সুন্দরভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোথাও অনিয়ম হলে আমরা ব্যবস্থাও নিচ্ছি। ইতোমধ্যে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন, তারা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের জানাচ্ছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করছি। কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও জবাবদিহিতা করছি। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনা মোতায়েন করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, দেখি পরিস্থিতি কী হয়। এখন সেনা মোতায়েনের আলামত তো দেখছি না। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী- সেনা মোতায়েনের পরিস্থিতি নেই।

সিইসি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারাও নিরপেক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। ইসির অনুমোদিত বৈধ সাংবাদিকরাই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। কিন্তু বেশিক্ষণ ভোটকেন্দ্রে থাকতে পারবেন না। অন্যদের সুযোগ করে দেবেন। এছাড়া গোপন কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া যাবে না, ছবি তোলা যাবে না। আগামী ৩০ ডিসেম্বর-বুধবার দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে মেয়র পদে ৯২৩ জন প্রার্থী ও কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ১২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে বিএনপির ১২৩ জনের মতো প্রার্থী রয়েছেন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ