নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশের(জেএমবি) গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের সামরিক শাখার প্রধানসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর লালমিয়া কন্ট্রাকটর সড়কের হাজী নুর আহমদ টাওয়ারের নিচতলা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড, কয়েক’শ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, ১০টি ছোরা, বিপুল পরিমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। আটক পাঁচজন হলেন- চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. জাবেদ(২৪), গাইবান্ধা জেলার মৃত আকতার হোসেনের ছেলে বুলবুল আহমেদ(২৬) ঝিনাইদহ জেলার কোট চাঁদপুর উপজেলার মুমিনুল ইসলামের ছেলে মো. সুজন ওরফে বাবু(২৫), নোয়াখালী জেলার মাহবুব(৩৫) ও একই জেলার সোহেল ওরফে কাজল(৩৫)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার(উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য মাহবুব ও সোহেলকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে জেএমবির চট্টগ্রামের সামরিক শাখার প্রধান মো. জাবেদকে নগরীর অক্সিজেন থেকে আটক করা হয়। জাবেদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিকেল চারটায় কর্ণফুলী থানা এলাকায় জেএমবি’র গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।
“একমাস আগে হাজী নুর আহমদ টাওয়ারের নিচতলায় একটি কক্ষ ভাড়া নেয় জাবেদ। সেখানে ঘাঁটি গেড়ে জঙ্গী কর্মকাণ্ড শুরু করে জেএমবি সদস্যরা। সন্ধ্যায় জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়। বাসায় ঢুকেই বুলবুল আহমেদ ও মো. সুজনকে আটক করে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেওয়া হয়। তিনজনই হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় ছিল। জাবেদ হুট করে লাফ মেরে কৌশলে হাতে গ্রেনেড তুলে নেয়। গ্রেনেডের একটি পিন খুলে পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারে। গ্রেনেডের অন্য দুটি পিন খুলতে না পারায় এটি বিস্ফোরণ হয়নি,’ বললেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাবুল আক্তার।
তিনি বলেন,‘মো. জাবেদ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। সে ২০১২ সালে জেএমবিতে যোগদান করে।চট্টগ্রামে সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে জেএমবি’র আত্মঘাতি দলের সদস্যও। বুলবুল আহমেদ ওরফে ফুয়াদ। তিনি চট্টগ্রামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ছাত্র হিসেবে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। তিনি বলেন,‘নজরুল নামে এক ব্যক্তি জেএমবি’র চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ছিলেন। তার মাধ্যমে দেড় বছর আগে জেএমবিতে যোগদান করি। একমাস আগ থেকে নজরুলের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ নেই আমাদের। সে লাপাত্তা হয়ে যায়। সুজন ওরফে বাবু। পুলিশের কাছে নিজেকে ট্রাকের হেলপার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। জাবেদের মাধ্যমে গত মাসে জেএমবিতে যোগদান করে বলে জানান তিনি।
মো. জাবেদ, বুলবুল আহমেদ ও সুজনকে ঘটনাস্থল থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জানাননি পুলিশ। মাহবুব ও সোহেলকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। রাতে গোয়েন্দা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হাজী নুর আহমদ টাওয়ার নামে দুই ইউনিটের পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।ভবনটি খালি করে অভিযান শুরু করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা। বাসা থেকে বোমাগুলো উদ্ধার করে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেন তারা।
এসময় নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার একেএম শহীদুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার(অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য, নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কুসুম দেওয়ান, নগর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া। পরে কক্ষটিতে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে কয়েক’শ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। হ্যান্ড গ্রেনেডগুলো তারা নিজেরাই তৈরি করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে জেএমবি’র চট্টগ্রাম শাখার সামরিক প্রধান মো. জাবেদ।




