অবশেষে গত ক’মাস ধরে সীমার মাঝেই রয়েছে স্প্রেড (ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য)। তবে সীমার মধ্যে থাকলেও পরিমাণে তা কিছুটা বেড়েছে। এক্ষেত্রে পূর্বে স্প্রেড ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ থাকলেও তা গিয়ে ঠেকেছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে স্প্রেডের নিয়ম মানেনি ২৫টি তফসিলি ব্যাংক। নিয়ম না মানা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত খাতের কোনো ব্যাংক নেই। অর্থাৎ এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্প্রেডের নিয়ম মেনে চলেছে এ ধরনের মোট আটটি ব্যাংকের সবগুলো। আর বিদেশি খাতের ৯টি ব্যাংকের মধ্যে স্প্রেড মানেনি ছয়টি। নিয়ম না মানা বাদবাকি ১৯টি ব্যাংকই বেসরকারি খাতের। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে নতুন ৯টি ব্যাংকের তিনটি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য ৫ শতাংশের মাঝে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ঋণের সুদহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য অর্থাৎ স্প্রেডের নির্দেশনা যাতে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে মেনে চলে, এ ব্যাপারে সময় সময় তদারকি করা হয়।’ তবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এ ধরনের নিয়ম জোর করে প্রয়োগের কিছুই নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঋণের সুদহারের ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং ইএবির (এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বর্তমান সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ঋণের উচ্চ সুদহার কখনই ব্যবসাবান্ধব হতে পারে না। তাই তা অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মের মাঝেই থাকা উচিত।’
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত জুনভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খাতের পাঁচটি ব্যাংকের স্প্রেডের গড় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর বিশেষায়িত খাতের তিনটি ব্যাংকের গড় এক দশমিক ৯৮ শতাংশ। বাণিজ্যিক খাতের পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এছাড়া ওই সময়ে জনতা, রূপালী, সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪৫, ৪ দশমিক ৬৮, ২ দশমিক ৫০ এবং শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের তিনটি ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বাকৃবি) স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ১ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের ঋণাত্মক (-) শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে গত জুনভিত্তিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ’র ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঋণাত্মক (-) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, ওরি ব্যাংকের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ব্যাংক আল-ফালাহ্্ লিমিটেডের ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেডের ৩ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, আল-আরাফাহ্্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ২০ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, দ্য ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।




