নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ধরপাকড় শিথিল থাকায় মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি চলাচল করছে। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশাসহ নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচল করতে দেখা গেছে।তবে মহাসড়ক পুলিশের দাবি তারা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন। এতে কোন ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না। সরেজমিন দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকে নগরীর সিটি গেইট, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারি, কদমরসুল, মাদাম বিবিরহাট, বারআউলিয়া, কুমিরা, সাতবাড়িয়া, ফকিরহাট, সীতাকুণ্ড এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও ভটভটি চলাচল করছে। তবে সংখ্যায় কম থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সীতাকুণ্ড অটোরিকশা মালিক সমিতির সহ সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের ভিত্তিতে সকাল থেকে সিএনজি অটোরিকশা রাস্তায় নামিয়েছি। পুলিশ তবুও ধরপাকড় করছে। ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছি। রুট পারমিটও আছে। সরকার বিকল্প সড়ক তৈরি না করে তিন চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকার গরীব সিএনজি অটোরিকশা চালক-মালিকদের পেটে লাথি মেরেছে। এটা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। সীতাকুণ্ড ছাড়াও বারইয়ারহাট, বড় দারোগাহাট, জোরারগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পৌরসভা সদর, বড়তাকিয়া, হাদী ফকিরহাট, নিজামপুর কলেজসহ মিরসরাই উপজেলার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তিন চাকার গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।
মিরসরাই উপজেলা বহুমুখী অটোরিকশা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন,‘স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ধরপাকড় করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই সোমবার সকাল থেকে সিএনজি অটোরিকশা সড়কে চলাচল শুরু করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কেও সীমিত আকারে তিন চাকার গাড়ি চলাচল করছে। মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। গত ২২ জুলাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে তদারক কমিটির পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,‘সড়কে নিরাপত্তা বিধানে আগামী ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার অটোরিকশা এবং সকল শ্রেণির অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।




