রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ফিদা মুনতাসীর সাকের নামে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) এক সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের সময় তার কাছ থেকে একটি পুরনো সিপিইউ, তিনটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল সেট, দুটি হার্ডডিস্ক, তিনটি মাউস, দুটি ল্যাপটপ চার্জার, একটি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ধরনের ২১টি বই, তিনটি লিফলেট, একটি নোট বই, ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্টের স্ক্রিনশট (১ থেকে ৮২ পাতা), ই-মেইল আইডিতে সংরক্ষিত জিহাদ ও আইএস সম্পর্কিত বিভিন্ন পুস্তকের ফ্রন্ট পেজের স্ক্রিনশট উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্সের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে বনানী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুনতাসীর জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আইএসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তার বাসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মী সংগ্রহ ও তাদের আশ্রয় দিয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন।
কৃষ্ণ পদ রায় জানান, এর আগে মুনতাসীর নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সক্রিয় সদস্য ও জুনুদ আল তাওহীদ খিলাফাহ নামে আইএসের আদলে বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুনতাসীর আরও জানান, তার সহযোগী ১০/১২ জন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সদস্য সংগ্রহ ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করার জন্য বৈঠক করছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণ পদ রায় জানান, দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা উৎখাতের মাধ্যমে আইএস নির্দেশিত খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুনতাসীর তার সহযোগীদের নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি আরও জানান, সংগঠনটি গোপনে অর্থ, অস্ত্র ও কর্মী সংগ্রহ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে হত্যা প্রভৃতির মাধ্যমে আইএসের খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছিলো।




