সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েচট্টগ্রাম বিভাগমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মহেশখালীর চারজন কারাগারে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মহেশখালীর চারজন কারাগারে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন করে গ্রেফতারকৃত কক্সবাজারের মহেশখালীর পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার একই মামলার আসামি ওই চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- জিন্নাত আলী, মৌলভী ওসমান গণি, নুরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়া। শুনানি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। এদিকে এ মামলার আরও একজন আসামি শামসুদ্দোহাকে শনিবার  গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তাকে পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ পাঁচজন ও এর আগে গ্রেফতারকৃত দু’জন এবং এখনও পলাতক ১২ জনসহ কক্সবাজারের মহেশখালীর মোট ১৯ জন এ মামলার আসামি। সবার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও গ্রেফতার হয়েছেন সাতজন। তাদের মধ্যে বাকি দু’জন হচ্ছেন- এলডিপির নেতা কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি সালামত খান উল্লাহ খান ওরফে আঞ্জুবর ওরফে ‘পঁচাইয়া রাজাকার’ এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রশিদ মিয়া। পলাতক আছেন ১২ জনের মধ্যে মৌলভী জাকারিয়া সিকদার ছাড়া আর কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এ ১৯ জনের মামলার তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। কক্সবাজার জেলার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের দুইজন সালামত উল্লাহ খান ও মোহাম্মদ রশিদ মিয়ার সঙ্গে অপর আসামি মৌলভী জাকারিয়া সিকদারের বিরুদ্ধে গত ১ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই দুপুরে সালামত ও রশিদকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। ২ মার্চ তাদেরকে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আরও ১৬ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পান তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন। গত ২১ মে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে ওই ১৬ জনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। গত চারদিনে তাদের মধ্যে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা জানান, মোহাম্মদ রশিদ মিয়া ও সালামত উল্লাহ খানের মামলার তদন্তে গিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে মোট ৭৫ জন মানবতাবিরোধী অপরাধীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন মারা যাওয়ায় এ মামলায় আসামি করা হতে পারে ৪৩ জনকে। প্রাথমিকভাবে ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্মান্তরিতসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ২৪ জনের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হবে। সবাইকে আসামি করা হলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দেশে যতো মামলা হয়েছে তার মধ্যে মহেশখালীতেই সবচেয়ে বেশি আসামি হবেন। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও দু’টি মামলা রয়েছে। চকরিয়া থানার মামলায় ১৯ জন ও পেকুয়া থানার মামলায় দুইজন আসামি রয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ