আইসিসির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ট্রফি মঞ্চে ছিলেন না আ হ ম মোস্তফা কামাল। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন। রোববার মেলবোর্নেই এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আইসিসি সভাপতি। আইসিসির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখানে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি সত্যিই হতাশ। বাংলাদেশে ফিরেই এর বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেব। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। তার উপস্থিত না থাকা নিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, অনেক আগে থেকেই ওরা চেয়েছিল আমি যেন মঞ্চে না উঠি। ওটি ওদের পরিকল্পনাই ছিল। আমার বিপক্ষে একটি কারণ পেয়েই সেটি এদিন ব্যবহার করেছে।
বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে নিজের দেওয়া বক্তব্যে মোস্তফা কামাল বলেন, আমি আবারও বলব সেদিন দেশের পক্ষে এবং ক্রিকেটের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমি ভারতের বিপক্ষে না। হয়তো সেদিন ভারতের সঙ্গে হারতাম। কিন্তু আমি ক্রিকেটের আসল মেজাজ উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশের আসল শক্তি দেখতে চেয়েছিলাম। আমি তার পক্ষেই লড়েছি। আমি ভারতের বিপক্ষে কোনো কথা বলিনি। আমার কথাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে আইসিসি আর ভারত এক হয়ে গেছে। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মাঠে অনেক প্ল্যাকার্ড ছিল যেখানে লেখা ‘ইন্টরন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল বিকাম ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছিল আপনারা যা দেখেছেন আমিও দেখেছি। এর উত্তরেই তখন বলেছিলাম, আমি তো আইসিসির সভাপতি, ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি না। আর তাই যদি হয়, তাহলে আমার পদত্যাগ করা উচিত; আমি সেটিই বলেছি। এর মানে এই নয়, আমি ভারতের বিপক্ষে কথা বলেছি।
কলকাতার টেলিগ্রাফ পত্রিকাই জানিয়েছিল বিশ্বকাপে ট্রফি বিতরণ মঞ্চে থাকছেন না আইসিসির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। শেষ পর্যন্ত ফাইনালের পরই দেখা গেল আইসিসির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ক্লার্কদের ট্রফি তুলে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি ও আইসিসির চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আইসিসির সভাপতি মোস্তফা কামালেরই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার এ টুর্নামেন্টের ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা। তবে আইসিসির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে চেয়ারম্যানকে পদ তৈরি করে তাকেই সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়। সভাপতির পদটি হয়ে থাকে শুধু মাত্র সম্মানসূচক। ফাইনালে ট্রফি বিতরণকালে এন শ্রীনিবাসনের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও শচিন টেন্ডুলকার।



