অগ্রজ রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পা ছুঁয়ে সালাম করে দোয়া নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন। মনোনয়নবঞ্চিত মহিউদ্দিন নাছিরকে বুকে টেনে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার নানা পরামর্শ দিয়েছেন। রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে যান নাছির। মহিউদ্দিন চৌধুরীর আজম নাছিরকে অভ্যর্থনা জানান। আ জ ম নাছির মহিউদ্দিন চৌধুরীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন এবং নির্বাচনে জয়লাভে দোয়া ও পরামর্শ জানতে চান।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনী পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চান। এসময় আজম নাছির বিস্তারিত নির্বাচনি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। থানায়, থানায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত মহিউদ্দিনকে জানান আ জ ম নাছির। পরে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আজম নাছির একে অপরের মুখে মিষ্টি তুলে দেন। প্রায় একঘণ্টা আলাপকালে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আজম নাছিরকে খুব হাস্যেজ্জল দেখা গেছে। আজম নাছির বারবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে কখন কি করবেন, কিভাবে করবেন বা কিভাবে করলে ভাল হয় সে বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী সাবলিলভাবে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেন আজম নাছিরকে।
মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মেয়র নির্বাচনে নাছিরকে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) মনোনয়ন দিয়েছে। সে আমার স্নেহভাজন। সকলকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। নাছির ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চট্টগ্রাম উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রামের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশবাসী চট্টগ্রামের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই বিজয় ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। নির্বাচন করার অধিকার সকলের আছে। বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন ও সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। নির্বাচন করে জনগণের কাছে গিয়ে হয়তো তাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসবে। আজম নাছির সাংবাদিকদের বলেন, মহিউদ্দিন ভাই দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত। ওনার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। মহিউদ্দিন ভাইয়ের পরিকল্পনা ও নির্দেশ অনুযায়ী আমি নির্বাচন করব। তিনিই আমার মুরব্বি। মহিউদ্দিন ভাইয়ের দোয়া ও অভিজ্ঞতায় বিজয় ছিনিয়ে আনা সহজ হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। যার আহ্বায়ক থাকবেন সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইসহাক মিয়া ও সদস্য সচিব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকার ছয়টি থানায় ১১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি করে নির্বাচনি কমিটি গঠন করা হবে। প্রত্যেক কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান করা হবে।




