সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে রুল শুনানিতে ৫ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে রুল শুনানিতে ৫ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার রুল শুনানিতে ৫ জনকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন। ৫ অ্যামিকাস কিউরি হলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, আজমালুল হোসেন কিউসি ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ। ২০০৯ সালের  ৮ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিভিন্ন বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়।

২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়াকে কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী বলে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রোববার ও সোমবার এ রুলের শুনানি শেষ করেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

পরে মনজিল মোরসেদ জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। যেমন দখল নির্ধারণ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান, দখল পুনরুদ্ধার, সম্পত্তি অ্যাটাসমেন্ট এবং রিসিভার নিয়োগ ইত্যাদি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মাসদার হোসেন মামলার আপিল বিভাগের রায় অনুসারে বিচার বিভাগ প্রশাসন থেকে আলাদা হবার পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তা সত্ত্বেও ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারা অনুসারে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা প্রদান করে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

ওই সংশোধনীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচারকার্য পরিচালনা করার বিধান করা হয়েছে। যদিও ফৌজদারি আইনের ৪এ (২) (বি) ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। ফৌজদারি আইনের ১০ ধারায় সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগের বিধান রয়েছে। সুতরাং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে দাবি করেন মনজিল মোরসেদ।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ