রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিসরকারবিরোধী আন্দোলনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিলেন খালেদা জিয়া

সরকারবিরোধী আন্দোলনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিলেন খালেদা জিয়া

সরকারবিরোধী আন্দোলনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে এক সভায় দেশ রক্ষায় তরুণদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন মহাসংকটকাল অতিক্রম করছে, আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে তেমনি দেশের জন্য তরুণ প্রজন্মেরও দায়িত্ব রয়েছে। তোমরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। আমরা পেছন থেকে তোমাদের উৎসাহ দেব। এবার আন্দোলনে আমিও রাজপথে থাকব। এখনও নিজেকে এত দুর্বল মনে করি না যে লড়াইয়ের মাঠে থাকতে পারব না।  রোববার রাতে গুলশানের নিজ কার্যালয়ে ব্লু-ব্যান্ড কল অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নামে একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। বর্তমান সরকারের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে- এমন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু এক দেশ নিয়ে থাকলে হবে না। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ওরা তো ভীতু। সাহস থাকলে জনগণকে ফেস করত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মানুষ একটা কিছু করে ফেলত। কিন্তু ভয় পেয়ে আমাকে তিন দিন বাড়িতে আটকে রেখেছিল সরকার। যাতে আমি বাড়ি থেকে বের হতে না পারি। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে বের হতে দেয়া হয়নি। দেখামাত্রই গুলি করা হয়েছে, অনেককে মেরে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশ এখন মহাসংকটে রয়েছে। গণতন্ত্র এখানে নির্বাসিত। দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে। আওয়ামী লীগের লুটপাটের কারণে ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসবে তাদের জন্য দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আগামীতে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এখন প্রশাসনের ৪৮০ জন কর্মকর্তা ওএসডি হয়ে আছেন। তাদের বড় অপরাধ বিএনপির শাসনামলে তারা পদোন্নতি পেয়েছেন। আমার সময়ের পিএস ও এপিএসকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। তারা ওএসডি হয়ে আছেন। এটা হচ্ছে এই সরকারের নীতি। অথচ হাসিনার সময়ের পিএস আমার শাসনামলে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আমরা কখনও কর্মকর্তাদের দলীয়করণ করিনি। এখন আওয়ামী লীগ না করলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হয় না।
একের পর এক দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের অদক্ষতা ও অনিয়মের কারণে শিল্প মালিকরা লোকসানে পড়ছেন। মালিকরা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ না থাকায় নতুন বিনিয়োগ আসছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে বিদেশী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে দেশের শিক্ষিত তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। সরকার ছাত্রলীগকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্ত্রাগারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাসের দাম নেই, যদি না সে ছাত্রলীগ করে। সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্লু ব্যান্ডের সভাপতি মো. ফয়েজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ সংগঠনটির শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ