রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনমিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে তিন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১৫ জন। চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সমর্থীত মিরসরাই ছাএলীগের (একাংশের) সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মাইনুল ইসলাম মিল্টন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী আজ বিকেলে ১২ নম্বর খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন সম্মেলনে আহবায়ক পদে সায়েফ উদ্দিন বাপ্পি ও সদস্য সচিব পদে ইমরুল ইসলাম মুরাদ বিজয়ী হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি বড়তাকিয়া বাজার পদক্ষিন শেষে আবুতোরাব রোড়ের মাথায় পৌঁছালে মিরসরাই থানা পুলিশ আকষ্মিকভাবে কর্মসূচিস্থলে এসে নব-নির্বাচিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পি ও মুরাদকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতারের চেষ্টা করে। এতে উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে সংসদ মোশাররফ সমর্থীত ছাত্রলীগের অপরাংশের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়াস সমর্থিতদের ধাওয়া করতে গেলে উভয় গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ বাধে।

উপজেলা ছাএলীগের আহবায়ক (একাংশের) শেখ আব্দুল আউয়াল তুহিন বলেন, নব নির্বাচিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মুরাদ ও বাপ্পিকে গ্রেফতারের চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে মোশারফ সমর্থীতরা হামলা চালায়।  এ সময় পুলিশ নির্বিচারে গিয়াস সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়লে প্রায় ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয় গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা বেশকিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বর্তমানে বড়তাকিয়া বাজার ও পাশ্ববর্তী এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের অপরাংশের (মোশাররফ সমর্থিত) উপজেলা আহবায়ক মাইনুর রানার নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান বলেন, পুলিশ কেন গুলি চালিয়েছে তা আমার জানা নেই। সেটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় মো. ইমতিয়াজ, মো. কবির, মো. ফখরুলসহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কি কারণে পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর গুলি চালিয়েছে তা জানতে চাইলে বিষয়টি পরে জানাবেন বলে সংযোগ বিছ্ছিন্ন করে দেন।  মিরসরাই-সীতাকুণ্ড পুলিশ সার্কেল  সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, বড়তাকিয়া বাজারে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ছাড়া কিছুই বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ