চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, সন্ত্রাসীদের চট্টগ্রাম ছাড়তে বলেছেন নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনার মো.আব্দুল জলিল মন্ডল। বুধবার সকালে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ছিনতাইকারী, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা হয় পেশা ছাড়বে নয়ত তাদের চট্টগ্রাম ছেড়ে যেতে হবে। আমরা পুলিশ বাহিনী জনগণকে সেবা দেব, কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, সমাজবিরোধীকে নয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে বদলি হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর আব্দুল জলিল মন্ডল সিএমপি কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। এরপর বুধবার তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, আমি চট্টগ্রামবাসীকে স্বস্তি দিতে এসেছি। চট্টগ্রাম নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। জনগণকে স্বস্তি দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার আমি সব করব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুম, খুনের সঙ্গে পুলিশ জড়িত নয়। পুলিশ কাজ করে সংবিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী। কোন পুলিশ সদস্য আইন বর্হিভূত কাজ করলে তার দায়দায়িত্ব বাহিনী নেবেনা। তিনি বলেন, আমরা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকব। রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে যদি জনগণের জানমালের উপর আঘাত আসে সেটা প্রতিহত করব।
হেফাজতে ইসলামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির জন্ম আগে হলেও ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় এর আত্মপ্রকাশ আমরা দেখেছি। তাদের কর্মসূচী নাশকতার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। সেদিন যদি পুলিশ বাহিনী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন না করত তাহলে দেশের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।তিনি বলেন, আমি এখানে সেবা দিতে এসেছি, যুদ্ধ করতে আসিনি। এরপরও খুন, ডাকাতি, ছিনতাই যখন যে অপরাধ সামনে চলে আসে সেটাই নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকেবে। তিনি বলেন, থানার অফিসারদের বলেছি জনগণের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে। জনগণকে আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই থানার অফিসারদের মাধ্যমে। চট্টগ্রামের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণে পুলিশের মতামত নেয়া উচিৎ ছিল বলেও মন্তব্য করেন আব্দুল জলিল মন্ডল।
মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, ট্রাফিক ও প্রশাসন) একেএম শহীদুর রহমান এবং বিভিন্ন জোনের উপ-কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো.হাছান চৌধুরী।
এর আগে আব্দুল জলিল মন্ডল চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মজীবনে আব্দুল জলিল মন্ডল বাগেরহাট, নীলফামারী এবং জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কসভো ও ক্রোয়েশিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো.শফিকুল ইসলামকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে খালি থাকা ওই পদে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।




