সুন্দরবনের ৫ একরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। বুধবার রাতে বনবিভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানালেও এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবারও বনবিভাগ, টাইগার টিম, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের সদস্যরা জানান, সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে দেরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি বাইশেরছিলা এলাকার গহীন অরণ্যে আগুন লাগে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘বনজীবী’রা সুন্দরবনের গাছ-পালায় দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিয়ে মংলার চাঁদপাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
রেঞ্জার আবুল কালাম আজাদ রাত সাড়ে ১০টায় জানান, বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬০ সদস্যের একটি দল স্থানীয়দের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সুন্দরবনে আগুনে কি পরিমাণ এলাকার গাছপালা পুড়ে গেছে তা জানাতে পারেননি।
এ কর্মকর্তা আরো জানান, পলি জমে পূর্ব সুন্দরবনের মরাভোলা নদীর দুই পাড় উঁচু হয়ে যাওয়ায় শুস্ক মৌসুমে পাতা পড়ে ও বনের গাছপালার শিকড় পঁচে একধরনের গ্যাসের সৃষ্টি হয়। কোনো বনজীবীর বিড়ি, সিগারেট বা মৌয়ালদের ফেলা আগুন ওই গ্যাসের সংস্পর্শে এলে বনে আগুন ধরে যায়। ওই এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই এরকম অগ্নিকাণ্ড হয়।




