রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার ভুল উন্মোচিত হলো ২ বছর পর

ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার ভুল উন্মোচিত হলো ২ বছর পর

আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

প্রথা বিরোধী লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার ভুল ধরা পড়লো ২ বছর পর। এ ভুল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল, স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটররা (পিপিরা)।

একই ঘটনায় তিনটি চার্জশিট দাখিল করা হলে একটি ঘটনা থেকে তিনটি মামলার উদ্ভব হয়। আর তিনটি মামলারই বিচার চলছে সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে। তিনটির একটি হত্যার ঘটনায় আর বাকি দুটি বিষ্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলা। এ মামলায় আসামিপক্ষের সদ্য নিযুক্ত আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ ভুলটি সোমবার আদালতকে ধরিয়ে দেন। তিনি আদালতকে বলেন, হত্যার ঘটনায় একটি মামলা ঠিক আছে। কিন্তু একই ঘটনায় দুটি বিষ্ফোরক আইনের মামলা চলতে পারে না।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভ‍ূঁইয়া আইনজীবীর সঙ্গে একমত পোষণ করে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনজীবীর সহযোগিতা চেয়েছেন। ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী আব্দুল মালেক আদালতে দুটি চার্জশিট (নম্বর ৫৭৪ ও ৫৭৫) দাখিল করেন। বোমা বিষ্ফোরণের চার্জশিটটি সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আমলে নেওয়ার পর তা বিচারের জন্য ১২ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার নম্বর ৯২১/০৭।

কিন্তু হত্যাচেষ্টা মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের (এসিএমএম) আদালতে বিচারাধীন থাকাবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর অধিকতর তদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন এসিএমএম এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া।

অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার ফের দুটি চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. লুৎফর রহমান। চার্জশিট নম্বর ১৮৫ ও ১৮৬। বিষ্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাটিও সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়ে ১২ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠায়। যার মামলা নম্বর ৩২৬/১২। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয় হত্যা মামলাটি (নম্বর ৫৬৭৯/১২)।

ঢাকার ১২ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নাহারের আদালতে বোমা বিষ্ফোরনের অভিযোগে একই অপরাধে দুটি মামলারই বিচার চলছিল। মামলা দুটির প্রথমটিতে বাদীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করায় তিনটি মামলার একত্রে বিচারের জন্য ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। সোমবার শুনানির সময় একই অপরাধে দুটি মামলার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট ফারুক। মামলা দুটির একটি প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন তিনি।

কিন্তু উক্ত আদালতের মামলা প্রত্যাহার করার এখতিয়ার নেই। ফলে মামলা দুটিতে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিচারক সিনিয়র বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর এভাবেই ২০১২ সালে ৩০ এপ্রিল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ২ বছর পর একই অপরাধে দুটি মামলার ভুলটি ধরা পড়লো।

মহানগর দায়রা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী বলেন, শুধুমাত্র হত্যাচেষ্টা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন এসিএমএম আদালত। সে ক্ষেত্রে বিষ্ফোরক আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দেওয়া ছিল আইনগত প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আরও দুইজনকে নতুনভাবে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিলে সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের কর্তব্য ছিল আগের মামলাটি বিচার ফাইল থেকে প্রত্যাহার করে দুটি মামলা এক সঙ্গে আমলে নেওয়া।

এহসানুল হক সমাজী বলেন, ১২ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কর্তব্য ছিল মামলা দুটি একই ঘটনায় হওয়ায় তার সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো। ওই আদালতের স্পেশাল পিপি কর্তব্য ছিল ভুলটি ট্রাইব্যুনালকে ধরিয়ে দেওয়া।

মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু  বলেন, একই ঘটনায় দুটি মামলা ও দুটি বিচার চলতে পারে না। তিনি ঘটনা সমন্ধে কিছুই জানেন না। ঘটনা এমন হলে তিনি তা সমাধানের ব্যবস্থা করবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ