ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
চাকরির নামে অভিনব প্রতারণায় নেমেছে অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠান। এশিয়া-ই-ব্যাংকিং নামের এ নামধারী প্রতিষ্ঠান প্রতারণার কাজে ব্র্যাকের বিকাশের সাতটি নম্বর ব্যবহার করেছে। তবে বড় কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটার আগেই বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি আমলে নিয়ে বিকাশ কর্তৃপক্ষকে সর্তক করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৭টি বিকাশ নম্বরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেকোনো ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রতারক চক্র প্রায় ৯৫ হাজারে বেকারের কাছ থেকে সোয়া দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিকাশের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র থেকেই এ তথ্য জানা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সূত্র বলছে, এশিয়া-ই-ব্যাংকিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান সাতটি বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। মূলত দেশের লাখ লাখ বেকার যুবকের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবেই এটি করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন। তারা এ ব্যাপারে শিক্ষিত বেকার যুবকের সর্তক হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এশিয়া ই-ব্যাংকিং নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে বিডিজবসটুডে.কম এর নামে একটি জবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনটি পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় জানান, আমাদের কাছে এমন কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, এশিয়া ই-ব্যাংকিং নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। তাই বিকাশ কর্তৃপক্ষকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, বিজ্ঞাপনে ০১৮৬১৮৭৫৬৭৭, ০১৮৬১৮৭৫৬৬৬, ০১৮৬১৮৭৫৬৫৬, ০১৮৬১৮৭৬০০২, ০১৮৬১৮৭৫৬৭৫. ০১৮৬০২১০১০৪, ০১৮৬০২১০১০৭ এর বিকাশ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে, এ বিকাশ নম্বরগুলো কারা ব্যবহার করছেন বা কোথা থেকে খোলা হয়েছে। এসব হিসাবের বিস্তারিত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা।
বিকাশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্সের ব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম সোমবার জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।
বিডিজবসটুডের ওয়েবসাইটে আপলোডেড বিজ্ঞাপন থেকে দেখা গেছে, এশিয়া ই-ব্যাংকিংকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বলা হয়েছে। এর জন্য রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার জন্য সিনিয়র অফিসার, জুনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ অফিসার পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। মোট পদের সংখ্যা বলা হয়েছে ৯৫০টি। এর মধ্যে সিনিয়র অফিসার পদ ২৫০, জুনিয়র ও ক্যাশ অফিসার ৭০০টি।
আগ্রহী প্রার্থীদের সূত্র জানিয়েছে, উল্লেখিত সাতটি নম্বরে আড়াইশ’ টাকা করে পরীক্ষার ফি হিসেবে পাঠাতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতে একটি পদের বিপরীতে প্রায় ১০০ জন অংশ নিয়ে থাকেন। সে হিসেবে ৯৫০টি পদে মোট প্রার্থী হতে পারে প্রায় ৯৫ হাজার বেকার যুবক। বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে প্রতিজনের কাছ থেকে আড়াইশ’ টাকা নিলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এ পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপনে আবেদনের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সিনিয়র অফিসারের বেতন বলা হয়েছে ২০ হাজার ৩৭০ টাকা, জুনিয়র অফিসারের ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা আর ক্যাশ অফিসারের বেতন বলা হয়েছে ১১ হাজার ২৪০ টাকা।
এশিয়া ই-ব্যাংকিং এর কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা বিজ্ঞাপনে নেই। শুধু বলা হয়েছে, মিডিয়া সেন্টার, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০। প্রতিষ্ঠানটির একটি ওয়েবসাইট থাকলেও সেখানে কোনো ঠিকনা ব্যবহার করা হয়নি। যোগাযোগের বেশ কয়েকটি মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকলেও সবগুলো নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে বিডিজবসটুডে ও এশিয়া ই-ব্যাংকিং এর ডোমেইন তথ্য থেকে দেখা গেছে, বিডিজবসটুডে.কম এর মালিক রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজে এর মালিক দাবি করে মোবাইল ফোনে বলেন, আমার কোনো অফিস নেই। যদিও ডোমেইন কিনতে তিনি যাত্রাবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেন, টেলিফোন ও ই-মেইল এ এসব কাজ করি। তবে বিডিজবস এর ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, না করা হয়নি। আর এশিয়া ই-ব্যাংকিং এর ঠিকানা বলা হয়েছে নওগাঁ থানা রোড। মালিক হিসেবে বলা হয়েছে দেবাশীষ দাস দীপু নামের এক ব্যক্তিকে।




