ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৠাবের এএসপি জাফর উল্লাহ আদালতের নির্দেশে হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। বুধবার সকালে বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হন তিনি। এ সময় মামলার ফাইল না আসায় দুপুর দুইটার পরে শুনানির সময় ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন এসএম মাসুদ হোসেন দোলন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট গাজী মো. মামুনুর রশীদ।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। সাগর-রুনি হত্যা মামলার ৩ আসামির জামিনের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মামলার তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ। তদন্ত কর্মকর্তাকে বুধবার ৫ মার্চ হাইকোর্টে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন আদালত।
ইতোমধ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ কারণে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় পরদিন শেরে বাংলানগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম।
মামলায় বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও কামরুল হাসানকে ওই বছরের ১০ অক্টোবর গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা আবার ডা. নিতাই হত্যা মামলার আসামি। ওই তিন আসামি গত সেপ্টেম্বরে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
১৮ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে আসামিদের আইনজীবী এসএম মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, এ তিনজনকে নিতাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো ২০১২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। পরে তাদেরকে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ার পরও আসামিদের আটকে রাখা হয়েছে। তাদের জামিন দেওয়া হোক। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা তদন্তের অগ্রগতি জেনে আদেশ দেবো।
এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দুই মাস পর হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যা মামলায় ওই তিন জনসহ মোট আট আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।




