চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম (৪৫) মারা গেছেন। গ্রেফতারের একদিন পর বুধবার (২৪ জুন) ভোরে কারাগারের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের এবাস হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, বুধবার সকালে বন্দিদের নাম-ঠিকানা নিবন্ধনের সময় নুরুল আলম বুকে ব্যথার কথা জানান। এরপর তাকে দ্রুত কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুল আলমের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা ছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, আমাদের হেফাজতে তিনি মাত্র আড়াই ঘণ্টা ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এটি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নয়, তিনি কারাগারেই মারা গেছেন।
কারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নুরুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




