ব্যাংক উদ্যোক্তাদের রিটে আবারও ঝুলে যেতে পারে ৫ ইসলামী ব্যাংকের ভাগ্য। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একীভূতকরণের পক্ষে নয় বলে জানালেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তারা। একইসঙ্গে সুদমুক্ত আর্থিকভাবে সহায়তা করা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব বলে মত তাদের।
গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে দুর্বল ৫ শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। এতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে থাকলেও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক বিপক্ষে অবস্থান নেয়। আজ আবারও সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানালেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচলকরা।
সাবেক পরিচালকদের দাবি, সোশ্যাল ইসলামীর পূর্বের পর্ষদের কাছে দায়িত্ব দিলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে ব্যাংক রেজ্যুলেশন ২০২৫- কে চ্যালেঞ্জ করে ৫ ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারদের রিট আবেদন হয়েছে উচ্চ আদালতে। ফলে রিট নিষ্পত্তি করে একীভূতকরণের পথে হাঁটতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে বলে মত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল করিমের।
তার মতে, তাড়াহুড়া না করে ব্রিজ ব্যাংক করাতে বড় বিনিয়োগের বিষয়টির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকার থেকে আসলে আমানতকারীসহ নিরাপদ হবেন শেয়ার হোল্ডাররাও।
দুর্বল পাঁচ ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক মিলে একটি রাষ্ট্র মালিকানার ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় হবে ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূলধন হিসেবে সরকার দেবে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা তহবিল এবং এসব ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে। পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রমটি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে শেষ করতে চায় সরকার। এ জন্য সময়ভিত্তিক কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার রূপরেখার খসড়া নিয়ে গতকাল রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহম্মদসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একীভূতকরণ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি। তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হওয়া নিয়ে বিরোধিতা আসে। শেষ পর্যন্ত সার্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রস্তাবে সম্মত হয় সরকার।
বৈঠকে জানানো হয়, একীভূতকরণ বিষয়ে ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে তিন ব্যাংক একীভূতকরণে সম্মত হলেও এক্সিম এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আপত্তি তোলে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাংক দুটি পর্যাপ্ত মূলধন জোগাড় করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে তাদের একীভূতকরণের আওতায় আনা হবে না। কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি।




