রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আন্দোলনে উত্তাল সচিবালয়

আন্দোলনে উত্তাল সচিবালয়

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। সোমবার (২৬ মে) সচিবালয়ের ভেতরে বাদামতলা থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভে করছেন। এ সময় জারিকৃত অধ্যাদেশকে অবৈধ কালো আইন উল্লেখ করে, এ আইন বাতিলের দাবিতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করছেন তারা।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ছাড়াও এতে অংশ নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তাদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সচিবালয়। কর্মচারীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।

রোববার (২৫ মে) রাতে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার। গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাদেশটি অনুমোদনের পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অধ্যাদেশ জারির পরদিন সকাল থেকেই সচিবালয়ে ছয় নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় জড়ো হন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে অবস্থান করবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। সেই সঙ্গে সব গেটই বন্ধ করে দেয়। এ সময় সচিবালয় অবরুদ্ধ করে সব গেট বন্ধ করে দেওয়ায় কোন গাড়ি ভেতরে ঢুকতেও পারছেনা না। যার ফলে সচিবালয়ের ভেতর তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর অধ্যাদেশকে ‘কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে জানান, এটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এরপর সচিবালয় চত্বরের বাদামতলায় অবস্থান নেন কর্মচারীরা। পরে অবশ্য উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরিষদের নেতারা। দুপুর দেড়টার দিকে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে অধ্যাদেশ জারির পর আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সোমবার (আজ) ১১টায় বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

প্রশাসন বিশ্লেষক ও সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য কিছুটা কড়াকড়ি বিধানের দরকার আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেভাবে লাগামছাড়া চলছেন, যখন-তখন প্রশাসনকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন—এটা কাম্য নয়। এদের লাগাম টেনে ধরার জন্য স্বল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি অযৌক্তিক নয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করার চিন্তা করবেন, তারা সংশোধিত আইনে কিছুটা হলেও ভয়ে থাকবেন।

কিন্তু ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ জন্য তারা আন্দোলনে নামেন। এই আন্দোলন, বিক্ষোভের মধ্যেই গতকাল রোববার সরকারি চাকরির এই অধ্যাদেশ জারি হয়। আন্দোলনরত কর্মচারীরা এই অধ্যাদেশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা বলেছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অন্তত সাত থেকে আটটি ধাপ পার করতে হয়। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিভিন্ন তদবিরে শাস্তি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ