ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
ঢাকার বাইরে অবরোধ ভালো হলেও রাজধানীর চিত্র নিয়ে হতাশ বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, দশম সংসদ নির্বাচন থামাতে হলে শুধু অবরোধ বা হরতাল দিয়ে সফল হওয়া যাবে না। এ জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এখন পর্যন্ত তাতে সফল হয়নি বিরোধী দল।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে নতুন করে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরেই সন্দেহ আছে। কারণ, ২৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। তখন আন্দোলনে আরও ঢিলে ভাব চলে আসতে পারে। সব মিলিয়ে ২৫ ডিসেম্বরের পর কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে, এ নিয়ে বিএনপির দল ও জোটে আলোচনা চলছে।
সূত্র জানায়, বিরোধী ১৮-দলীয় জোট সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর আন্দোলন কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছে। তবে আন্দোলনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। টানা অবরোধে থাকার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আছে। সেদিকে ইঙ্গিত দিয়ে পঞ্চম দফা অবরোধ ঘোষণার দিন নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। বড়দিনের উত্সবের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবরোধ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ কয় দিনের মধ্যে আলোচনা করে যদি বিএনপি মনে করে যে ঢাকায় নেতা-কর্মীদের মাঠে নামানো যাবে, পেশাজীবী এবং ১৮ দলের বাইরে থাকা কয়েকটি দলকেও নামানো যাবে তাহলে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৫ ডিসেম্বরের পর বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পাশাপাশি ১৮-দলীয় জোটের বাইরে থাকা সমমনা দলগুলোকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই রাজপথে নামবেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিকভাবে আলোচনা চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে খালেদা জিয়া রাজপথে নামার আগে ঢাকায় সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে নেতারা মনে করছেন। সে জন্য নেতা-কর্মীদের আগে মাঠে নামতে হবে। রাজপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। অবরোধ চলাকালে বিচ্ছিন্ন ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ছাড়া বড় কোনো মিছিল-সমাবেশ করতে পারছে না বিরোধী জোট। শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতাকেও রাজপথে দেখা যায় না। ঢাকার আন্দোলন জোরদার করার জন্য দলের আটজন নেতাকে গত নভেম্বরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের দেখা মিলেনি রাজপথে।
শীর্ষস্থানীয় নেতারা রাজপথে না থাকার কারণ জানতে চাইলে ১৭ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, সরকার কোথাও কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। গুলি করছে। এ অবস্থায় রাজপথে অবস্থান নেওয়া কষ্টকর। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অবস্থান নেওয়া যাবে না।




