বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল হংকং কর্তৃক বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুইদিন ব্যাপী ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উদযাপন করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে স্থানীয় ‘চাই ওয়ান স্পোর্টস সেন্টারে’ ৩২ জন তরুণের অংশগ্রহণে একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এরপর ২৬ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে হংকংয়ের স্বনামধন্য ‘কোয়েরিসাইড ডকইয়ার্ড থিয়েটারে’ উৎসবের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ ও অনারারি কনসাল, হংকংয়ের স্থানীয় লোকজন ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীসহ কনস্যুলেটের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কনসাল জেনারেল মিজ্ ইসরাত আরা ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষ্যে তার স্বাগত বক্তব্যে সম্প্রতি বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে ‘নতুন বাংলাদেশ’ এর পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে “এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” স্লোগানকে ধারন করে সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে বাংলাদেশে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ও ‘তারণ্যের উৎসব’, এই নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। হংকংয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তিনি অনুপ্রানিত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি প্রদর্শন, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্যাশন শো, বাংলাদেশী খাবারের স্টল, মেহেদি পড়ানো, শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মজাদার খেলার আয়োজন করা হয়। কনস্যুলেট কর্তৃক ছয়টি স্টল স্থাপন করা হয় যেখানে বাংলাদেশী বিভিন্ন হস্তশিল্প যেমন বেত, হোগলা পাতা, পাটের তৈরি ঝুড়ি, মৃৎশিল্প, নকশি কাঁথা, জামদানি শাড়ি, চা ইত্যাদি প্রদর্শন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশীয় নৃত্য, পাহাড়ী নৃত্য, চাইনিজ গান এবং ফ্যাশন শোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের পোশাকের প্রদর্শনী উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। এছাড়া বাংলাদেশী কমিউনিটি কর্তৃক বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী খাবারের স্টল স্থাপন করা হয় যেখানে ঐতিহ্যবাহী ও বাহারী রকমের বাংলাদেশী খাবার প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় হংকং কমিউনিটির সদস্যসহ, বিদেশী অতিথিদের মধ্যে গ্রাফিতির প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের বীরত্বগাথা, বাংলাদেশী খাবার ও পণ্য গভীর কৌতূহল তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মজাদার খেলা এবং ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’-এ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। উপস্থিত দর্শকবৃন্দ ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উদযাপনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।




