চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনটি তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে এবং চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনটি জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলুকে আওয়ামী লীগ ছাড় দিলেও ফটিকছড়ি আসনটি ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানেনি সেখানকার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর জয়ের পথের কাঁটা হয়ে আছেন আওয়ামী লীগের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। অপরদিকে কোতোয়ালী আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলুকে আওয়ামী লীগ ছাড় দিলেও তাঁর জয়ের পথে শক্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনএফ প্রার্থী অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন। বিএনএফ প্রার্থী অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিনের বাড়ি বাকলিয়ায় হওয়াতে তিনি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। প্রচারণাও শুরু করেছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপি কোতোয়ালী আসন থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউদ্দিন বাবলুর জয় একেবারেই সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থকরা। বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কোতোয়ালী আসনে যেই নির্বাচিত হোন না কেন- লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। নগরীর সবচেয়ে সচেতন ভোটারদের বসবাস এই কোতোয়ালী এলাকায়। প্রশাসনিক, রাজনৈতিক-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির দিক দিয়ে এই আসনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনের বিভিন্ন পেশাজীবী, তরুণ সমাজ এবং সংখ্যালঘু ভোটাররা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়াতে পারেন।
জাতীয় পার্টির একাধিক নেতার সাথে কথা হলে তারা জানান- এই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউদ্দিন বাবলুকে ছেড়ে দিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী জিয়াউদ্দিন বাবলুকেই ভোট দিবেন। কেন্দ্র থেকে এই ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানান জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিএনএফ নেতা মহিদুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান জানান, আরিফ মঈনুদ্দিনের বাড়ি বাকলিয়ায় সুতরাং আঞ্চলিকতার টানে শেষ পর্যন্ত বাকলিয়ার বিশাল ভোট ব্যাংক তাঁর দিকে ঝুঁকতে পারে। আওয়ামী লীগের সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসির মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়টি তাঁর অনুসারীরা ভালোভাবে নেননি। কর্মীদের মাঝে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই শেষ পর্যন্ত অনেকেই এই ক্ষোভ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটাতে পারেন বলে মনে করছেন বিএনএফ-এর নেতা-কর্মীরা।
তবে এই আসনের ১৪ দলের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু হানিফও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য। ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ গণসংযোগকালে আওয়ামী সমর্থকদেরকে বোঝাতে চাচ্ছেন যে-তিনি আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের শরীক দলের প্রার্থী। তাকে ভোট দেয়া মানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেয়া। তাঁর দলের সাথে আওয়ামী লীগের আদর্শগত মিল আছে। তাঁর কথায় অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক একমত পোষন করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত না মেনে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন- উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মাহমুদ হাসান এবং সাবেক উত্তর জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ নাজিম উদ্দিন। সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সাথে তারাও সমান তালে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ রয়েছেন তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সাথে। জয়ের ব্যাপারে তাঁর সমর্থকরা বেশ আশাবাদী




