তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার দাবি উঠেছে। সংগঠনটির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ‘ফোরাম’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এ আবেদন করে। সোমবার (১৯ আগস্ট) ফোরামের মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী বাণিজ্য সচিব বরাবর এ চিঠি দেন।
চিঠিতে দাবি করা হয়, বিজিএমইএর বিতর্কিত সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এসএ মান্নান কচি ও তার সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ গঠন করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।
চিঠিতে বলা হয়, হাসিনা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিজিএমইএ বেশিরভাগ বাণিজ্য সংগঠনের মতো স্বতন্ত্র ও গণতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। নির্বাচনে প্রভাব খাটানো হয়েছে এবং ভুয়া ভোটার তৈরি ও জাল ভোট প্রদান এবং বহিরাগত দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। গত মার্চের নির্বাচনে ভোটারদের হালনাগাদ আয়কর রিটার্ন ও ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু নিয়ম ভেঙে ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কারখানার অস্তিত্ব নেই অথবা দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ ও রফতানি নেই, এমন ব্যক্তিদের ভোটার করা হয়েছে। ভুয়া ও জাল ভোট এবং বৈধ ভোটারদের হুমকি প্রদানসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি সভাপতি পদ দখল করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিজিএমইএ সভাপতি সংগঠনের কার্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। এমন অনুপস্থিতি অতীত হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ দেয়। এছাড়া এসএম মান্নান কচির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সঙ্গে সরাসির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২–এর ধারা ১৭ অনুযায়ী বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী পর্ষদ গঠন করে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং বিজিএমইএর ভিতরে দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।




