চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর বন্দরনগর চট্টগ্রামে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এ আশংকায় সতর্ক অবস্থায় আছে পুলিশ। এ সতর্কতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন নেতার উপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। এর পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতির উপরও নিবিড় নজরদারি (মনিটরিং) চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) মাসুদ-উল-হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর কোনো বিরূপ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কিনা, কেউ ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে আমরা রাতভর সতর্ক ছিলাম। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। আমরা সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে রাখব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগেই শুক্রবার দুপুর থেকে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনেসহ নগরীর ১২টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া নগরের ১৬টি থানাকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, নগর পুলিশ লাইন থেকে শুক্রবার বিকেলে নগরে আড়াই‘শ রিজার্ভ ফোর্স মোতোয়েন করা হয়। এছাড়া প্রত্যেক থানা থেকে নামানো হয় কমপক্ষে পাঁচটি করে টহল টিম।
নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে, কাজির দেউড়ি, ওয়াসা, এ কে খান মোড়, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং মোড়, অক্সিজেন, টাইগার পাস, চকবাজার, বহদ্দারহাট মোড় এবং সিইপিজেড মোড়ে ২০ জন করে ২৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের আশংকা ছিল, বিএনপি-জামায়াত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর মিছিল-সমাবেশ করে নাশকতা করতে পারে। কিন্তু বিরোধী দল কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় নি। বরং আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে খন্ড খন্ড মিছিল করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাতে বৈঠক করবে বলে শুনেছি। বৈঠকের পর কোনো কর্মসূচি দেয় কিনা কিংবা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় কিনা, সেজন্য আমরা সতর্ক থাকব। একইসঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের যেসব নেতা হরতালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় নেতৃত্ব দেন, নেতিবাচক ভাবমূর্তির এসব নেতাকে আমরা নজরদারিতে রাখছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলের প্রতি প্রস্তাব দেন।




