ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আর একদিন পরই মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদুল আযহা আরবি শব্দ। আর কোরবানির শাব্দিক অর্থ ত্যাগ। যেহেতু মুসলমানরা তাদের ত্যাগের মাধ্যমে মহান আল্লাহ নৈকট্য লাভ করে বিধায় একে কোরবানি বলা হয়। জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে পরম ত্যাগের নির্দেশন স্বরূপ বিশ্ব মুসলিম মহাসমারোহে হজের অন্যতম অংশ পশু জবাইয়ের মাধ্যমে কোরবানি বা ঈদ-উল আযহা উৎসব পালন করে।
এদিকে, কোরবানির গরু জবাই করার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী কসাই। এবার প্রায় ১লাখ মৌসুমী কসাই ঈদের দিন থেকে পরের দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পশু জবাইয়ের কাজ করবেন।
অপরদিক, মৌসুমী কসাইয়ের কারণে চামড়ায় লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে বলে পেশাদার কসাইরা মনে করছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, মৌসুমী কসাইরা বছরে একবার পশুর চামড়া ছাড়ায়। পশুর চামড়া ছাড়ানোর উত্তম পন্থা তারা জানেনা। এসব কসাই (মৌসুমী কসাই) শুধু টাকা কামানোর উদ্দেশ্যেই আসে।
পেশাদার কসাইরা আরো অভিযোগ করে বলেন, একজন পেশাদার কসাই একটি পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার যে পরিমাণ দাম নেয় তা অধিকাংশ কোরবানি দাতারাই দিতে রাজি হন না। এ সুযোগকে কাজে লাগায় মৌসুমী কসাইরা। তারা অল্প পারিশ্রমিকে কাজ করে থাকে।
এদিকে, পেশাদার কসাইদের ব্যাপারেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সিদ্ধেশ্বরী নিবাসী সৈকত জানান, তারা পেশাদার কসাইকে দিয়ে গরু কোরবানি করেন না। কারণ পেশাদার কসাইরা অনেক সময় ধর্মীয় নিয়ম কানুন মানে না। এজন্য তিনি মৌসুমী কসাই দিয়ে তার পশু জবাই দিয়ে থাকেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাজধানীতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিল। এবার এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ডিসিসি সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শান্তিনগর বাজারের এক কসাই জানান, প্রতিবছরই কোরবানির ঈদ মৌসুমে ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে এসে কোরবানির পশু জবাই করে। কিন্তু এতে তাদের ব্যবসার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ক্ষতি হয় চামড়ার। কারণ চামড়া ভালভাবে না ছাড়ালে চামড়ার কোনো মূল্য থাকেনা।
তিনি আরো জানান, ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দিনে প্রায় ১০টি কোরবানির পশু জবাই করেন। আর একেকটি পশু জবাইয়ের জন্য তারা পান চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
এছাড়া কোরবানিকে ঘিরে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কামার পাড়া। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য নতুন ছুরি, চাকু তৈরির পাশাপাশি পুরনো ছুরি, চাকু ও চাপাতিতে সান দেয়ায় ব্যস্ত বিভিন্ন কামার পট্টির দোকানীরা।




