ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বিএনপি মানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, খুন আর লুটপাট। বিএনপির আমলে পাবনা, রাজশাহীসহ এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর রূপপুর মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে নির্যাতন শুরু করে। মানুষ খুন, ডাকাতি ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের আতঙ্কে ছিল। পাবনার ২০০ খ্রিস্টান পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট শুধু লুটপাট ও সন্ত্রাস চালিয়েছে। কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। আজকে আমরা ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। এছাড়া সারাদেশে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করেছি। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর ঈশ্বরদীতে ইপিজেড করেছি। সেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিএনপি নেত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন। এতিমের মুখের টাকা গ্রাস করেছেন। শুধু পাবনায় নয়, দেশের সব জায়গায় এমনই দুর্নীতি করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে কালো টাকার মালিক হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রীর দুই ছেলে। তারা ১০ ট্রাক অস্ত্র এনেছিল।’
খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেন- তিনি আর আমাকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। তিনি যে আমাকে আর চান না, এটা আমি ভালো করেই জানি। কারণ আপনারা ভালো করেই জানেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমাকে ১৩টি গ্রেনেড মেরে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে তা করতে পারেননি। তবে আইভি রহমানকে হত্যা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। কামাল-জামাল থেকে শুরু করে ছোট্ট রাসেলকেও ওরা মেরে ফেলেছিল। ১৫ আগস্ট আমার বাবার মৃত্যুবাষির্কী। ওইদিন খালেদা জিয়া তার জন্মদিন পালন করেন। দিনাজপুরের যে স্কুলে খালেদা ভর্তি হয়েছিলেন, তার ভর্তির তথ্যমতে জন্মতারিখ ৫ সেপ্টেম্বর।’
তিনি বলেন, ‘খুনিদের মদদ দেওয়া আমার চরিত্র নয়। ’৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যাকারীদের জিয়া মুক্ত করে দেন। খালেদা খুনিদের মদদদাতা। তিনি রশিদ, হুদাদের জন্য ভোট চুরি করে এমপি বানিয়ে ছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে এখানকার সবগুলো আসনে নির্বাচিত করেছেন। এর আগে পাবনা ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। কিন্তু এখন পাবনার মানুষ শান্তিতে আছে। সারাদেশের মানুষ শান্তিতে আছেন। আগে এখানকার অনেক মানুষ ঘরহারা ছিলেন। এখন আর নেই। যদি থেকে থাকে, তাহলে তাকে সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত জোট সরকার দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ দেয়নি, খাম্বা দিয়েছিল। তারা সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ৯৮০ কোটি টাকা লুটপাট করেছিল।’
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৩,২০০ মেগাওয়াট। আমরা সেটাকে বাড়িয়ে ৪,৩০০ মেগাওয়াট করেছি। পাবনায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু করেছি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এটা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে আমরা বায়তুল মোকারমের উন্নয়ন কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দিয়েছে। পরে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে কাজ আবার শুরু করেছি।’
জামায়াত, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত মিলে কোরান পুড়িয়েছে। ব্যাংকে আগুন দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে নির্বাচনের সময় খালেদা প্রচার চালিয়ে ছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নাকি কেউ মসজিদে যেতে পারবেন না। আজান শোনা যাবে না। মসজিদে নাকি উলু দেবে। কারো জানাজাও হবেনা। কিন্তু, আমরা ক্ষমতায় আসার পর এসবের কিছুই হয়নি। বরং মসজিদের উন্নয়ন হয়েছে।’
বিএনপি নেত্রী মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা নারীদের হাতে ছোট ছোট কোরান শরীফ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কোরান নিয়ে যারা মিথ্যা কথা বলে, তারা কী করে ইসলামের হেফাজত করবে! এই দেশে ইসলামের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি আমরা। বঙ্গবন্ধুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি।’
সমবেত দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগকে কেন ভোট দেবেন, কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। আওয়ামী লীগের আমলে আমরা ৪ হাজার ৫০৭টি সেতু, ১৩ হাজার ৭৭১টি কালভার্টসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন করেছি। আমরা মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, যেন বাবা-মায়েদের খরচ করতে না হয়।’
দেশ ডিজিটালাইজেশনের দিকে আগাচ্ছে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি। দেশের মোবাইল ফোনের দাম কমিয়েছি। কলরেট কমিয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রে কম্পিউটার দিয়েছি। তথ্যকেন্দ্র চালু করেছি। সেখানে অনেক ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। কিন্তু বিগত সরকার এ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার তা চালু করেছি।’




