রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সংসদ সদস্যপদ যাচ্ছে না সাকা চৌধুরীর !

সংসদ সদস্যপদ যাচ্ছে না সাকা চৌধুরীর !

ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পেলেও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ এখনই বাতিল হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কারও সংসদ সদস্যপদ থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু এ জন্য আপিল বিভাগের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সংসদের চলতি মেয়াদে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান নির্বাচন কমিশন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের ভোটাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই উঠবে এই আইন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পরই ভোটার তালিকা থেকে দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম বাদ হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো আবু হাফিজ বলেন, ‘আপিল বিভাগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় বহাল থাকলে তার সংসদ সদস্যপদ থাকবে না’। এই হিসাবে নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ থাকতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সদস্যপদ হারাবেন কি না, তা নিশ্চিত না। কারণ বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি। এর আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল আবেদনের শুনানি শেষ হওয়া অনিশ্চিত।

আজ দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য আরও ৩০ দিন সময় পাবেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালে ছয়টি মামলাতেই আপিল হয়েছে ঠিক একমাস পর। এই হিসাবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যদি ১ নভেম্বর আপিল করেন তাহলে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই মামলা শেষ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

কারণ, এখনও আপিল বিভাগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর শুনানি চলছে। আরও দুই জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহম্মদ কামারুজ্জাম চৌধুরীর মামলায় শুনানি শুরু নাও হতে পারে।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের মামলায় আপিলের পর শুনানি শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলাতেও একই অবস্থা হতে পারে বলে মনে করছে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান গত ৫ ফেব্রুয়ারি। এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে ৩ মার্চ। খালাস চেয়ে কাদের মোল্লা আপিল করেন পরদিন। প্রায় এক মাস পর ১ এপ্রিল শুরু হয় শুনানি। ২৩ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয় আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার শুনানি চলাকালে আরেক জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল শুনানি শুরু হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির আদেশের ঠিক এক মাস পর খালাস চেয়ে আপিল করেন সাঈদী। আর সাজা না দেয়া ছয় অপরাধে সাজা চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর আপিল করার প্রায় ছয় মাস পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এই মামলায় শুনানি।

৯ মে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা মুহম্মদ কামারুজ্জামান আপিল করেছেন গত ৬ জুন। ১৫ জুলাই ৯০ বছরের দণ্ড পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন গত ৫ আগস্ট। একই মামলায় ফাঁসি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে ১২ আগস্ট। আর ১৭ জুলাই ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ আপিল করেছেন গত ১১ আগস্ট। এই তিনটি মামলাতেও শুরু হয়নি শুনানি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ