‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশে’ পৌঁছানোর অভিযাত্রায় এবার নতুনদের নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। ঘোষিত তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রামের তিনজন। এদের মধ্যে দুইজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজনকে উপমন্ত্রী করা হয়েছে। এরা একজন উত্তর চট্টগ্রাম, একজন দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং একজন চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের মন্ত্রি সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা কর্ণফুলী আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রামের তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ও প্রথমবারের মত নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাকে করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের তিনজনের মধ্যে ড. হাছান মাহমুদ বর্তমান মন্ত্রিসভায় ছিলেন না। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রথমে প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তাকে মন্ত্রী করা হয়নি।
অপরদিকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পিতা আখতারজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুতে শূন্য আসনে উপনির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ঠেকানোর পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ঝটিকা অভিযানে বিভিন্ন সময় দুর্নীতিগ্রস্ত ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের শায়েস্তা করেও তিনি সুনাম কুড়ান। দক্ষতা এবং সৃজনশীলতায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্ব পাওয়া তৃতীয় জন হলেন সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। একেবারে তরুণ এই নেতা প্রথমবারেই যেন চমক দেখালেন। গতকাল ঘোষিত মন্ত্রীসভায় নওফেলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন সদস্য আলাপকালে জানান, ‘মন্ত্রীসভা গঠনের ব্যাপারটি পুরোপুরিভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছিল। উনি খুবই ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সাথে আলোচনা করে মন্ত্রীসভার নাম প্রকাশ করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর আত্মীয়দের যেমন মন্ত্রীসভার বাইরে রেখেছেন, তেমনি পুরনো হেভিওয়েট অনেককে বাদ দিয়ে নতুনদের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজে লাগবে, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন দক্ষ, মেধাবী নেতাদের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো মন্ত্রী সভায় ঠাঁই না পাওয়া পুরনো, অভিজ্ঞ নেতাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি করে দায়িত্ব দেবেন। নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় অন্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে। মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনার ক্ষেত্রে নবীন-প্রবীনের সমন্বয় বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও উক্ত নেতা মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এটি একটি রেকর্ড। দেশের মানুষের আস্থার মূল্য দিতে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।




