শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সালাউদ্দিন কাদেরের রায় চলতি সপ্তাহেই!

সালাউদ্দিন কাদেরের রায় চলতি সপ্তাহেই!

আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করা হতে পারে চলতি  সপ্তাহের যে কোনোদিন। গত ১৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে ট্রাইবুনাল রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। ট্রাইবুনালের একটি সূত্র বলেছে আগামী বুধ কিংবা বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করা হতে পারে।  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, অপহরণ করে চট্টগ্রামের গুডস হিলে নির্যাতনসহ ২৩টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এই সংসদ সদস্যের বির“দ্ধে।
এদিকে গতকাল রোববার মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
হত্যা ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ,লুটপাটসহ মোট ৮৬ পৃষ্ঠার ৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গতকাল রোববার বেলা দুইটার দিকে রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন মাহমুদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন । গত ১২ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষ করে প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদনসহ সকল ডকুমেন্ট দাখিল করেন। গতকাল তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জমা দেন। তবে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেনি ট্রাইবুনাল।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার পরে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্ধারিত দিনে আমরা মোট ৮৬ পৃষ্ঠার ৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছি। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে দালিলিক প্রমাণসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট ছিল। এ বিষয়ে শুনানির জন্য  আজ সোমবার ট্রাইবুনাল দিন ধার্য্য করবে। তিনি বলেন, তদ‡š— সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের নয়টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছরের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে তদš— শুরু হয়ে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। তদন্ত ৪৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এসব সাক্ষী সুবহানের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সোবহানের অপরাধসমূহ : ১৯৭১ সালে তিনি তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামের নেতা ও বিহারীদের নিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া স্বাধীনতাকামী লোকদের অপহরণ করে হত্যা করেন।  ১৯৭১ সালে ১৩ এপ্রিল তার নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী যুক্তিতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লুটপাটসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ৫ জন নিরীহ-নিরক্ষর লোককে হত্যা ও ৩ জনকে  গুরুতর আহত করে। ১৯৭১ সালে ১৬ মে ঈশ্বরদী অরণখোলা গরুর হাট থেকে ২ জন লোককে অপহরণ করে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো(ঈশ্বরদী, পাবনায়) নিয়ে নির্যাতন করে। ১৯৭১ সালে ২ মে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানী আমিরা ঈশ্বরদী সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন লোককে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে ১১ মে মওলানা সোবহানের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে পাকিস্তানী আমিরা পাবনা সদর থানাধীন কুলনিয়া ও দোগাছি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন নিরীহ-নির¯¿ ও স্বাধীনতাকামী লোককে হত্যা করে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে পোড়াইয়া দেয়। ১৯৭১ সালে ১২ মে মওলানা সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী আমির একটি বিরাট বহর সুজানগর থানাধীন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জ্ঞাত-অজ্ঞাত ৩/৪ শত জন লোককে গণহত্যা করে। বিভিন্ন লোকজনের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পোড়াইয়া দেয়। ১৯৭১ সালের ২০ মে মওলানা সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী  আমিরা পাবনা সদর থানাধীন ভাড়ারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন নিরীহ লোককে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রামের একটি স্কুলে হত্যা করে। অপর ১৭ জনকে পাবনা সদর নূরপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে আটক করে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটঘরিয়া থানাধীন দেবত্তোর বাজারের পাশে বাঁশবাগানে গুলি করে হত্যা করে। বাকি অন্যদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যায় নাই।  ১৯৭১ সালে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের যেকোন দিন মওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে আতাইকুলা থানাধীন (সাবেক পাবনা সদর থানা) দুবলিয়া বাজার থেকে ২ জন স্বাধীনতাকামী লোককে অপহরণ করে কুচিয়ামাড়া গ্রামে একটি মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে ৩০ অক্টোবর মওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে ঈশ্বরদী থানাধীন বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটসহ বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ৪ জন লোককে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে আমত্মজার্তিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। মামলার সংখ্যা বাড়া, স্ব”ছ ও দ্রম্নত গতিতে নিষ্পত্তির জন্য ২০১২ সালের ২২ মার্চ আমত্মজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ নামে  আরেকটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। এর মধ্যে দুটি ট্রাইবুনালে ১৭ জনকে  বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ইতমধ্যে ৬টি মামলার রায় ঘোষনা করা হয়েছে। সর্বপ্রথম  ২১ জানুযারী বা”চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদ কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। যদিও তিনি পলাতক রয়েছেন। একই ট্রাইবুনাল ৫ ফেব্রম্নয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয। সর্বশেষ ৯ জুন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারম্নজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আš—জার্তিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১, ২৮ ফেব্র“য়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।  সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ