শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনযৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের করলখাইন গ্রামের পিয়াংকা দাশকে (২৫) যৌতুকের জন্য স্বামীসহ শ্বশুর, শ্বশুড়ির মারধর করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী পিয়াংকা দাশ বাদী হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ে করেছেন। এতে আসামীরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার পরৈইকোড়া গ্রামের নারায়ন বাড়ি’র নারায়ন দাশের পুত্র স্বামী মিটন দাশ (৩২), শ্বশুর নারায়ন দাশ (৫৫) ও শ্বাশুড়ি আরগুরি দাশ (৫০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পিয়াংকা দাশের সাথে মিটন দাশের সহিত গত ২০১৪ সালে ১৪  জুলাই হিন্দু ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী বিবাহ হয়। তাদের সংসারে অনন্যা দাশ নামের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তানের জন্মের পর স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বাদী পিয়ংকা দাশের পরিবারে কাছে। এতে পিয়ংকা দাশের পিতা মেয়ে দাম্পত্য সুখে কথা চিন্তা করে স্বামীকে ২ লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করেন। পরবর্তীতে সে বিদেশ থেকে ফিরে আবার বিদেশ যাওয়ার সময় হলে পুনরায় বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করে তাকে মারধর করতে থাকে। এর মধ্যে সে তাকে না জানিয়ে রিতা দাশ নামের আরেক মহিলাকে বিবাহ করেন। তার চাহিদা মত যৌতুকের ৩ লাখ টাকা না দেয়ায় গত ২৮ আগস্ট তারিখে তাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দিলে সে পটিয়ায় বাপের বাড়িতে চলে আসেন।

এ ঘটনায় সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা দায়ের করে। এতে আদালত স্বামী মিটন দাশকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরে বিজ্ঞ আদালত আপোষের শর্তে তাকে জামিন প্রদান করলে সে স্ত্রী’র বাড়িতে গিয়ে বসবাস করতে থাকে। পরবর্তীতে সে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবারও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এতে টাকা দিতে অপারগতা জানালে স্বামী তাকে মারধর করে শারীরিকভাবে আহত করে। এতে সে পটিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায়।

এ ব্যাপারে মামলা বাদী পিয়ংকা দাশ জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে এবং তার সন্তানকে প্রাণে মারার হুমকি প্রদান করছে স্বামী মিটন দাশ। বর্তমানে তিনি তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ