রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনবিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু

বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা শুরু

জনগণের হয়রানি লাঘবে এবং সরকারি সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন  সাহা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ প্রজন্মের সন্তানেরা ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার সকালে নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেসিয়ামে এ মেলা শুরু হয়েছে।

শংকর সাহা বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে আমরা ঘরে বসে ভূমির নামজারি, বিদেশ গমনের তথ্যসহ সকল ধরনের সরকারি সেবা দ্রুত ভোগ করছি। জনগণের সেবা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক অধিকার। মানুষ যাতে কম খরচে, কম সময়ে ও ভোগান্তি ছাড়াই সহজে  সরকারি সেবা ভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের ফলে তরুণ ও যুব সমাজ আউটসোর্সিং কাজ করে ঘরে বসেই হাজার হাজার টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবকরা তাদের নিজের ক্যারিয়ার গড়ছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ জনগণের সামনে তুলে ধরাই এ মেলার উদ্দেশ্য।

বিশেষ অতিথি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নুরুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন তখন আমরা বিষয়টা শুধু অনুধাবন করতাম। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে যারা একসময় হাস্য-কৌতুক করেছে তারা নিজেরাই এখন হাস্য-কৌতুক হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী এখন দপ্তরে বসে তৃণমূল পর্যায়ে একজন রিকশা শ্রমিকের সাথেও কথা বলছেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ায় দেশের জনগণ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির বাংলাদেশের সমস্ত কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবুল ফয়েজ বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের ফলে বিডি পুলিশ হেল্প ডেস্ক, অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও সিডিএমএস সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে অপরাধী শনাক্তকরণ ও দমন, আইনগত মতামত ও পরামর্শসহ যাবতীয় সেবা জনগণ ভোগ করতে পারবে। পাসপোর্ট আবেদনকারীদের পুলিশ প্রতিবেদনও অনলাইনে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শতভাগ স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আসবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয়  কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিযামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত  জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিরুল কায়সার ও উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন। পরে মেলার স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. মোমিনুর রশিদ আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মাশহুদুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর গল্প বলা, কুইজ প্রতিযোগিতা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাতে ব্যান্ড শো সাসটেইন, থাউজেন্ড ডায়াস শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত মেলায় শতাধিক স্টল অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সেবা খাত, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, টেলিকমিউনিকেশন্স প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ