বিশেষ প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
পাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে আমানত ছিল সোয়া ২ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫৬ শতাংশ আমানত বেড়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় এক কোটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ২০০৮ সালে এটি ছিল ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৯ জন। সে হিসেবে ঋণ গ্রহীতাও বেড়েছে ১০ লাখের বেশি। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো হালনাগাদ তথ্যে এসব জানা গেছে।
হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, সোয়া দুই কোটি মানুষ নতুন করে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা ছিলো ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৯ জন। ২০১৩ সালের আগস্টে হিসাবে আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি কিছু ওপরে। অর্থাৎ ২ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮১২ জন নতুন আমানতকারী ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে।
সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে মোট ৫৬টি ব্যাংক কার্যরত।তাদের মোট শাখার সংখ্যা ৮ হাজার ৪২৭টি। জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থিক খাতের প্রসার ও পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোটা জাতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। গত সাড়ে চার বছরে ১ হাজার ৫২৭টি নতুন ব্যাংক শাখা খোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গ্রামীণ জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতাভুক্ত করতেই নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে অর্ধেক শাখা গ্রামে/পল্লী এলাকায় স্থাপনের জন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমানে শহরের চেয়ে গ্রামেই ব্যাংকের শাখা বেশি। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভাবনীয় পুনর্জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমানে সবগুলো ব্যাংক শাখায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ আমানতকারী। ঋণ গ্রহীতা দাঁড়িয়েছে ৯৫ লাখ ৯৮ হাজার। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭৬ লাখ এবং ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার। অর্থাৎ গত চার বছরের ব্যবধানে আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে যথাক্রমে ২ কোটি ১২ লাখ ও ১০ লাখ ১৯ হাজার। আমানত ও ঋণ হিসাবের সংখ্যায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৫৬ শতাংশ ও ১২ শতাংশ।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেশে ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত চার বছরে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯০টি নতুন শাখা স্থাপিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষক, হত দরিদ্র জনগোষ্ঠী, অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনসাধারণের নামে দশ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার জন্যে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেবা ভুক্তির পরিমাণ আশাতীতভাবে বাড়ছে। বর্তমানে আর্থিক সেবা ভুক্তির আওতায় কৃষকদের ৯৬ লক্ষাধিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগীদের জন্যে ৩৬ লক্ষাধিক অর্থাৎ মোট এক কোটি ৩২ লক্ষাধিক হিসাব খোলা হয়েছে। এতে ব্যাংকিং সেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।




