রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচেম্বার ও লতিফ প্রসঙ্গ নাছির-সুজনের রুদ্ধতার বৈঠক

চেম্বার ও লতিফ প্রসঙ্গ নাছির-সুজনের রুদ্ধতার বৈঠক

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সধারীদের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শিগগির অনুসন্ধান চালাবে। চট্টগ্রাম চেম্বারের ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রক’ চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সাবেক সভাপতি এমএ লতিফের বিরুদ্ধে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে চেম্বারের সদস্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ১২ মে দুপুরে নগরের জামালখান এলাকার একটি অফিসে এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন একটি রুদ্ধতার বৈঠকও করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় আধ ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সূত্রটি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এমএ লতিফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা না মানা, অযৌক্তিকভাবে চট্টগ্রাম চেম্বারের ওপর হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ ওঠে। চেম্বারের সভাপতি থাকাকালীন লতিফ ‘ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স’ দিয়ে কয়েক হাজার ‘ভুয়া সদস্য’ করেছেন বলে বৈঠকে অভিযোগ করেন সুজন। সুজন এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালে মেয়র নাছির ‘ট্রেড লাইসেন্সগুলো’ যাচাই করে ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করেন।

গত এক দশক ধরে প্রায় শতবছর পুরানো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রক’ এমএ লতিফ। সেই সাথে একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন দেশের বৃহৎ সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের। এর সূত্র ধরেই মূলত মেয়র নাছিরের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

হটাৎ ব্যবসায়ী থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এমএ লতিফের কারণে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েও দলীয় সিদ্ধান্তে লতিফকে ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়ান সুজন।এরপর থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে লতিফের ‘অন্যায়’ কাজের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন সুজন। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন এ বৈঠকের বিষয়ে স্বীকার করে বলেন, আমরা তৃণমূলকে সংগঠিত করার লক্ষে কাজ করছি। এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। লতিফকে ইঙ্গিত করে সুজন বলেন, ‘যারা জীবনেও আওয়ামী লীগ করেননি, তারা এখন বড় আওয়ামী লীগার বনে গেছেন। এসব হাইব্রিড-সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। তিনি চেম্বারের ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়ে মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন বলে স্বীকার করেন। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম চেম্বারের ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়ে বলেন, অভিযোগ পেলে এসব ট্রেড লাইসেন্স যাচাই বাছাই করে বাতিল করা হবে। ট্রেড লাইসেন্স তো ভুয়া হতে পারে না, কিভাবে এসব ট্রেড লাইসেন্স হলো্ তা খতিয়ে দেখতে হবে।’ যোগ করেন মেয়র।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ