স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
সবুজ, সতেজ ও সুন্দর চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের খেলার মাঠ। মাটি ভেদ করে ছোট্ট একটি যন্ত্র কিছুক্ষণ পর পর ফোয়ারার সাহায্যে পানি ছিটিয়ে মাঠ ভেজাচ্ছে। মাঠে কিছুদূর পর পরই কিন্তু রয়েছে এমন বেশ কিছু ফোয়ারা। এভাবে পুরো মাঠই এই ফোয়ারার পানিতে ভিজছে যেটা একে করে তুলছে আরো সতেজ ও সবুজ। টেলিভিশনে বিদেশি স্টেডিয়ামগুলোর এমন দৃশ্য হর-হামেশা দেখা গেলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমন দৃশ্য বেশ নতুন।
যেখানে আগে দমকল বাহিনীর পাইপ দিয়ে কিংবা মাঠের গ্রাউন্ডসম্যানরা তাদের ছোট্ট চিকন পাইপের সাহায্যে খেলার মাঠকে সতেজ-সবুজ রাখার জন্য পানি ছিটাতেন সেখানে এখন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রই করে দিচ্ছে এই মাঠ ভেজানোর কাজ। আধুনিক এই যন্ত্রের নাম হচ্ছে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম। চট্টগ্রামে এই প্রথম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সেই স্প্রিঙ্কলারেই চলছে মাঠে পানি ছিটানোর কাজ।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এই প্রথমবারের মতো কোনো মাঠে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে পুরো কাজটিতে সহায়তা করছে দেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পেডরোলো এনকে লিমিটেড।
মাঠে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেমের কাজ শুরু হয় গত রমজান মাসে। পুরো কাজটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। বর্তমানে এই কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানায় সিজেকেএস কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, পরীক্ষামূলকভাবে মাঠে পানি ছিটানোর কাজও চলছে।
এ বিষয়ে পেডরোলো’র হেড অফ প্ল্যানিং ও স্প্রিঙ্কলার প্রকল্পের প্রধান তওহিদ ইকবাল টিটু জানান, অটোমেটিক স্প্রিঙ্কলার ইরিগেশন সিস্টেম নামের এই প্রকল্পে পুরো মাঠ জুড়ে মোট ৬৫টি স্প্রিঙ্কলার লাগানো হয়েছে। এখানে প্রতিটি স্প্রিঙ্কলারের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৬০ ফুট। ৬৫টি স্প্রিঙ্কলারকে নিয়ন্ত্রণ করবে ২০টি গেইট ভালভ। প্রথমে মাঠের দেড় ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করে সেখানে পাইপ, গেইট ভালভ, ইলেকট্রিক ক্যাবল সংযোজনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে মাঠে পানি সেচের কাজ। এক সাথে ৫-১০টি স্প্রিঙ্কলারে ফোয়ারার মাধ্যমে পানি ছিটানোর কাজ চলবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো মাঠে পানি দেওয়া যাবে। মাঠে ব্যবহৃত স্প্রিঙ্কলারগুলো আমেরিকার প্রখ্যাত কোম্পানি রেইন বার্ড’র ও বিশেষ এইচডিপি পাইপগুলো থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে এখন আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে মাঠে তেমন পানির প্রয়োজন না হলেও গ্রীষ্মকালে দিনে অন্তত দুই বার এই যন্ত্রের সাহায্যে মাঠে পানি ছিটাতে হবে বলে জানালেন সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে মাঠে পানির প্রয়োজন বেশি হয়। তখন প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা করে পানি ছিটানো হবে। এতে মাঠে সমানভাবে পানি দেওয়াও যাবে।
আগামী অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ড দলের সফর ও আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত হয়েছে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থা। নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজে অনুশীলন ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। এখানে ৪, ৫ ও ৬ অক্টোবর অনুশীলন ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।




