চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের কাজিরহাটে আওয়ামী লীগের মিছিলে সহিংস হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান এবং ওই ইউনিয়নের জামায়াত সমর্থক চেয়ারম্যান শফিউল আলম নূরীসহ ১০ জনকে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে পুলিশ।
এতে শিবির ক্যাডার বেলালসহ সাতজনকে মসজিদের মাইকে স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অপহরণের গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মোট পাঁচটি মামলায় ঘুরেফিরে এসেছে আড়াই’শ আসামীর নাম।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘পাঁচটি মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছি। সাক্ষ্যস্মারক সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এরপর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হবে। সব মিলিয়ে আরও মাসখানেক সময় লাগবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত হওয়া অভিযোগপত্রে জামায়াতকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তা বাস্তবায়নে স্থানীয় বিএনপি ও হেফাজতের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল ভুজপুরে গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী মিছিলে সহিংস হামলায় তিনজন নিহত এবং পুলিশ-বিজিবি সদস্যসহ কমপক্ষে দেড়’শ জন আহত হন।
মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বহনকারী কমপক্ষে দু’শ মোটর সাইকেল, তিনটি প্রাইভেট কার ও তিনটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস, ৫টি পিকআপ ভ্যান এবং একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত তিন ছাত্রলীগ কর্মীর পিতা এজাহার মিয়া, জামাল পাশা ও জিয়াউল হক জিয়া বাদি হয়ে ভুজপুর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় একটি এবং পুলিশের উপর হামলা ও কর্তব্যকাজে বাধাদানের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। পাঁচটি মামলায় মোট আসামী করা হয়েছিল ৪৭২ জনকে।
এজাহার মিয়া বাদি হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামী হিসেবে ১২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। জামাল পাশা’র মামলায় ৯৮ জন এবং জিয়াউল হক জিয়ার মামলায় ১১৫ জনকে আসামী করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ভুজপুর থানার একজন উপ-পরিদর্শক বাদি হয়ে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে ১৩৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও ফায়ার সার্ভিসের মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এজাহারে ৪৭২ জনের নাম থাকলেও অনেক নামই ঘুরেফিরে সব মামলায় এসেছে। তাই যাচাইবাছাই করে একেবারে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ নিয়ে আড়াই’শ জনকে আসামী করে পাঁচটি মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহিংস ওই ঘটনার পর ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম নূরীসহ ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল পরিকল্পনাকারী হাবিবুর রহমান এবং মাইকে গুজব ছড়ানোর নেতৃত্বদানকারী বেলাল এখনও পলাতক আছেন।
গ্রেপ্তারের পর ১১ জন আসামী ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া দু’জন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পরও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এবং বাঁশখালীতে বিভিন্ন ধর্মীয় গুজব ছড়ানো হয়েছিল। এরপরই সাধারণ মানুষ সেই গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে জড়িয়ে পড়ে তান্ডবে।
সূত্র জানায়, পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, একই ধরনের গুজব ভুজপুরেও ছড়ানো হয়েছিল। জামায়াত-শিবিরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
কারণ, উত্তেজিত লোকজন শুধুমাত্র মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের উপরই হামলা করেছে। বাজারে কোন দোকান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় মন্দির, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি কোথাও একটি ঢিলও পড়েনি। অভিযোগপত্রে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘হামলার জন্য জামায়াত-শিবিরের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। তারা ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করেছে। এসব বিষয় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে।’




