ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থল সীমান্ত ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বিষয়ে নিজের বিরোধী মনোভাব আবারো স্পষ্ট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এসব চুক্তির বিরোধীতা করে নিজের ফেসবুক পাতায় পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
রবিবার ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারে এ নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করা হয়। ফেসবুকের ওই পোস্টে এসব চুক্তি নিয়ে উদ্যোগী হওয়ায় দিল্লিরও সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী।
ফেসবুক পোস্টে মমতা বলেন, ‘রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে ভারতের ভূখণ্ড ও জল পড়শি দেশের (বাংলাদেশ) হাতে তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।’
তিনি অভিযোগ করেন, এর আগে আসাম ও ত্রিপুরার জমি এই পড়শি দেশের হাতে ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এই চুক্তি (স্থল সীমান্ত বিষয়ক) রূপায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ১৭ হাজার একর জমি বাংলাদেশে চলে যাবে। বদলে আসবে মাত্র ৭ হাজার একর জমি।
মমতা লিখেন, ‘স্থলসীমান্ত চুক্তিটি নিয়ে রাজ্য সরকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই বিদেশমন্ত্রীর (প্রাক্তন ও বর্তমান) সঙ্গে গত দুবছরে বহু বার কথা বলেছে। জানানো হয়েছে, যাদের জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে, তাদের মতামত নেওয়া দরকার। কিন্তু দেখা গেল রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে, বাসিন্দাদের মতামত ছাড়াই কেন্দ্র জমি বিনিময় করতে এগোচ্ছে।’
তার অভিযোগ, তিস্তা চুক্তির সময়েও একই জিনিস ঘটেছিল। চুক্তির খসড়া নিয়ে রাজ্যকে এক রকম কথা বলেছিল কেন্দ্র, পরে যখন তা চূড়ান্ত হয়ে সামনে এল দেখা গেল তাতে অন্য কথা রয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, এই জন্যই প্রথমে এগিয়েও পরে তিস্তা চুক্তি থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। মমতা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘কীসের এত তাড়াহুড়ো? রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্র কেন পড়শি দেশকে ভারতের ভূখণ্ড ও জল দিয়ে দিতে চাইছে? কী জন্য কেন্দ্র এই রাজনীতির খেলা খেলছে?’
ফেসবুকে কেন্দ্রের প্রতি মমতার বার্তা, ভারতে প্রচলিত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে তারা যেন মেনে চলে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক তিনিও চান। কিন্তু তা রাজ্যের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব সমর ঘোষ কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র সচিবকে চিঠি লিখে স্থলসীমান্ত চুক্তিকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার আনন্দবাজার পত্রিকায় ওই চিঠি প্রকাশিত হয়।
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, চিঠি প্রকাশের দিন রাতেই মমতা ফেসবুকে ওই পোস্ট দেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার একটি চিঠি ফাঁস করেছে।’
খবরে আরো বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাখাও বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিরোধী। চুক্তি সমর্থন করেনি বিজেপি-শরিক অগপ-ও।
কিন্তু অভিযোগ ওঠে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করে বিলটি সংসদে পাস করাতে তৎপর হয়েছে। ধোঁয়াশা কাটাতে এ দিন আসামে দলের নেতা-সাংসদদের পাশে বসিয়ে লোকসভায় বিজেপির নেত্রী সুষমা সরাজ বলেন, ‘দেশের জমি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।’




