ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের ২৪তম কাউন্সিলে গঠিত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান রানা রাজাকারের নাতি ও এলাকার কুখ্যাত ডাকাতের ভাগ্নে। সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনের বিরুদ্ধে হত্যা-ডাকাতিসহ প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরাসহ একাধিক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, তৌহিদ আল তুহিন দলীয় কর্মী আবদুল্লাহ আল সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এর আগের বছর নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতি মামলায় তিন মাসের জেলও খেটেছেন তিনি। ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর নতুন করে ‘তুহিন’ আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সদ্য নির্বাচিত সভাপতি মিজানুর রহমান রানার বিরুদ্ধে অছাত্র ও রাজাকারের নাতি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রানা বাগমারার তালিকাভুক্ত রাজাকার হাজী সাত্তারের নাতি ও এলাকার কুখ্যাত দুই ডাকাতের ভাগ্নে। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৪-০৫ সেশনের ছাত্র। অনেক আগেই তার ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। তিনি রাজশাহীর বাগমারার এভারগ্রিন নামক একটি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদানও করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ জুলাই পদ্মা সেতুর চাঁদার টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সমর্থক আবদুল্লাহ আল হাসান সোহেল। সভাপতি গ্রুপের সমর্থক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পর দিন তৌহিদ আল তুহিনকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নোমান। একই বছরের ২ অক্টোবর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মুখোমুখি সংঘর্ষে ক্যাডার তুহিনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় উভয় ছাত্র সংগঠনের অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হন। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলির করার এই দৃশ্য তখন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদেরকে ‘রাবিশ’ বলে তারা কি ছাত্র না ডাকাত, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জানতে চান এবং তাদেরকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। রাজশাহী শহরের ভদ্রা এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতি মামলার আসামিও তুহিন। ওই মামলায় তিনি বেশ কিছুদিন জেলও খেটেছেন। বর্তমানে তিনি পাঁচটি মামালার এজাহারভুক্ত আসামি। সবক’টি মামলাতেই তিনি এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে ছাত্রদল ও শিবিরের করা দুটি মামলা ছাড়া আর কোনো মামলা নেই। আমি ক্যাম্পাসে শিবির নিধন করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার জন্য কাজ করে যাব।
সদ্য সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, আমার নানা বাগমারা থানা শান্তি (রাজাকার) কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে জনপ্রতিনিধি থাকার জন্য তিনি তখন বাধ্য হয়ে এ কমিটির সদস্য হয়েছিলেন। কিন্তু আমার বাবা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।
এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু বলেন, সাবেক কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বর্তমান কমিটি দেওয়া হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো দায়ভার নেই।




