যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে শুধুই কাঁদলেন একাত্তরে তার নির্যাতনে নিহত অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘৪৪ বছর ধরে অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে আমি এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। চোখের সামনে পিতার হত্যাকারী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা দেখা ও সহ্য করা যে কতটা কষ্টের তা বলে বুঝানো যাবে না। ‘জীবিত অবস্থায় পিতৃহত্যার বিচার দেখে যেতে পারলাম, এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাকার বিরুদ্ধে মামলার এই সাক্ষী বলেন, ‘তার মতো সাহসী প্রধানমন্ত্রী না থাকলে এটা কোনো দিনই সম্ভব হতো না।’ শনিবার দিনগত রাতে রাউজানের গহিরায় কুণ্ডেশ্বরী ভবনে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ আবার স্বাধীন হয়েছে, রাউজান আবার স্বাধীন হয়েছে। আমি খুবই সন্তুষ্ট ও আনন্দিত।’
আর্য়ূবেদ শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রাউজানে নিজ বাড়িতে নারী শিক্ষার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন নূতন চন্দ্র সিংহ। প্রায় তিন দশক ধরে আমৃত্যু তিনি শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রগতিশীল আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী এদেশীয় রাজাকার মুসলিম লীগারদের টার্গেটে পরিণত হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের এ বরেণ্য শিক্ষাবিদকে রাউজানের গহিরায় নিজ বাসভবনের মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করে পাকবাহিনীর দোসর এদেশীয় রাজাকাররা। পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগের তৎকালীন নেতা মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নির্দেশে তার ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মুসলিম লীগের কর্মীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন সাকা। তবে সর্বোচ্চ সাজার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১৮ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্রকে হত্যার দায়ে সাকার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এরপর শনিবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান সাকা। কিন্তু রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাননি বিভিন্ন সময় কটূক্তি করে সমালোচনার তুঙ্গে থাকা সালাউদ্দিন কাদের। যদিও কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করে ছেলে হুম্মাম বলেছেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি। একই দাবি করেছে তার দল বিএনপিও।




