রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক টিনশেড ঘর পুড়ে গেছে। সোমবার দুপুর পৌনে ১ টার দিকে প্রগতি সরণিতে সিডিসিএল সিএনজি স্টেশনের পেছনে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে শুক্রবার ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি গার্মেন্টে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের টনি টাওয়ারের পাশে একটি ছয় তলা ভবনের প্রথম তলায় ‘ইস্ট ওয়েস্ট ফ্যাশন’ নামের ওই গার্মেন্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দিন দুপুরে সেগুনবাগিচায় বারডেম হাসপাতালের (ইউনিট-২) দ্বিতীয় তলায় শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মধ্য বাড্ডার প্রগতি সরণিতে ব্যাংক এশিয়া ও সিডিসিএল সিএনজি স্টেশনের পাশের গলিতে কয়েক বিঘা জমি ও জলাশয়ের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকশ’ টিনশেড ঘর। এর সামনেই রয়েছে টিনের তৈরি দোতলা কয়েকটি ঘর। স্থানীয়ভাবে এটি ভাই ভাই বোর্ডিং নামে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এই দোতলা টিনশেড ঘরের নিচে একটি ফুচকার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের এক পর্যায়ে আগুনের তাপে আশপাশের কয়েকটি ভবনের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বহুতল ভেনাস কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ির ভিড়ে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় প্রগতি সরণীর এক পাশের যান চলাচল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ওসমান গনির মালিকানাধীন ওই টিনশেড ঘরগুলোতে নিু আয়ের মানুষ বসবাস করতেন। এদের বেশিরভাগই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে। অল্পসংখ্যক মানুষই ঘটনার সময় এসব বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আগুনের সূত্রপাতের পরপরই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যেতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আহাজারি করতে করতে হেলেনা বেগম নামে একজন জানান, তার মেয়ে শিল্পী ও তার দুই বছরের ছেলে আদিব ও দুই মাসের ছেলে আতিককে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকে। তিনি পাশে আরেকটি বস্তিতে থাকেন। ফোনে মেয়ের কাছ থেকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসে মেয়ে ও নাতিদের খুঁজে পাচ্ছেন না। মেয়ের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাচ্ছেন। শিল্পীর স্বামী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী কবির হোসেনও আগুন লাগার খবর শুনে ছুটে এসেছেন। তিনিও স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুঁজে ফিরছেন। রীমা নামে আরেক নারী খুঁজছিলেন তার মা সায়রা বেগম (৫০) এবং তার দুই সন্তান শামীম (৬) ও রুপাকে (১)। রামপুরা ব্রিজের পাশে পান-সিগারেট বিক্রি করেন রীমা। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে গেলে দৌড়ে বের হয়ে এলেও তার মা সায়রা বেগম ও দুই সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে আগুন নেভানোর পর দু’জনই তাদের স্বজনদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে রাত ৮টার দিকে বাড্ডা থানার ওসি আবদুল জলিল যুগান্তরকে জানান, ঘটনাস্থলে কোনো লাশ পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার পর আতংকে হয়তো এদিক-ওদিক চলে যেতে পারে।ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জেলার উপ-পরিচালক নূরুল হক ঘটনাস্থলে যুগান্তরকে বলেন, তাদের মোট ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এছাড়া আগুন নেভাতে স্বেচ্ছাসেবী ফায়ার ফাইটারও তাদের সহযোগিতা করেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়-ক্ষতির বিষয় পরে তদন্ত করে বলা যাবে বলে তিনি জানান। নূরুল হক আরও বলেন, উৎসুক লোকজনের অতিরিক্ত ভিড় আর কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে।এদিকে, শুক্রবার ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘ইস্ট ওয়েস্ট ফ্যাশন’ নামের একটি গার্মেন্টে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের টনি টাওয়ারের পাশে একটি ছয়তলা ভবনের প্রথম তলায় ওই গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফয়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে আসে। হাসপাতালে ভর্তির পর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



