সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়এনডিসি ও এএফডব্লিউসিপ্রাপ্ত উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটের হাতে সনদ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এনডিসি ও এএফডব্লিউসিপ্রাপ্ত উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটের হাতে সনদ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) উত্তীর্ণ ১১৩ জন গ্র্যাজুয়েটের হাতে সনদ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্র্যাজুয়েটরা কর্মজীবনে অসামান্য সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জ্ঞান, ইচ্ছা ও অঙ্গীকারকে কাজে লাগিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ অডিটোরিয়ামে এ গ্র্যাজুয়েশন সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর। এ বছর দেশি-বিদেশি মোট ৭৭ জন প্রশিক্ষণার্থী ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে (এনডিসি) অংশগ্রহণ করেন।

এদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৮ জন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল, নৌ বাহিনীর চার কমোডর, বিমান বাহিনীর তিন গ্রুপ ক্যাপ্টেন, সিভিল সার্ভিসের ১১ জন, পুলিশের একজন ডিআইজি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ডিজি রয়েছেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, মিশর, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, তানজানিয়া, কুয়েত, জর্দানের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ২৭ কর্মকর্তা এবং সৌদি আরব রাজকীয় সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা এ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে এ বছর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে (এএফডব্লিউসি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ লেফটেন্যান্ট কর্নেল, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর দুই ক্যাপ্টেন ও তিন কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর দুই গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও তিন উইং কমান্ডার অংশগ্রহণ করেন। সরকার পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, জাতীয় বাজেটে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আমরা বর্ধিত হারে অর্থ বরাদ্দ করে যাচ্ছি। সশ্রস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক এমবিটি-২০০০, এসপি গান, আধুনিক রাডার, এপিসি ইত্যাদি কিনেছি। আর্মি এভিয়েশনে যুক্ত হয়েছে আধুনিক হেলিকপ্টার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফ্ট সংযোজিত হয়েছে। সাবমেরিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবহরে সাবমেরিন সংযোজিত হবে বলে আশা করছি। এছাড়া ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট ও নৌযান সংযুক্ত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান, সি-১৩০ পরিবহন বিমান, কে-এইট ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান, এম আই-১৭১ (এম আই-ওয়ান সেভেন ওয়ান) হেলিকপ্টার ও ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবস্থা বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করার কথা তুলে ধরেন তিনি।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোর্সের অংশ হিসেবে আপনারা সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আপনারা দেশ পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কেও জেনেছেন। আপনারা আপনাদের মেধা, শ্রম ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা বহুমাত্রিক বিশ্বে বসবাস করছি। যেখানে সর্বদা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পরস্পরের সংযোগকে বৃদ্ধি করছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, আবার মাঝে মাঝে প্রতিকূল পরিবেশও তৈরি করছে। পরিবর্তনশীল এই পরিবেশে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারকেও উৎসাহিত করছি। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সরকার রাজনীতি, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ