বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনমিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ওবায়দুল কাদের

মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। অচিরেই ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু হবে। রোববার চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইবিআরসি সম্মেলন কক্ষে সেনা কল্যাণ সংস্থার আওতায় ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস চট্টগ্রাম শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের আর্তসামাজিক ব্যবস্থার অনেক উন্নতির সোনালি আভা ফুটে উঠেছে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একসময় বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অন্যদিকে টুরিস্ট ভিলেজ হিসেবে এটিকে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকায় ট্যাক্সি ক্যাব উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে যে শুভ সুচনা করেছিলেন তা যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুনমাত্রা যুক্ত করেছে। বাংলাদেশে দীর্ঘকাল যাবৎ ভালো ট্যাক্সি ক্যাবের অভাব ছিল। মেগাসিটি ঢাকা ও কমার্শিয়াল হাব চট্টগ্রাম। এ দুটি সিটিতে ট্যাক্সি ক্যাব নেই এটা ভাবতে অবাক লাগে।

মন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর অবিরাম চেষ্টা করেছি ট্যাক্সি ক্যাব আনতে কিন্তু কেউ রাজি হন না। ট্যাক্সি ক্যাব হাজার হাজার আনে এগুলো হলো ডিজেল চালিত এবং ৭০০সিসি, ৮০০সিসি। কয়দিন পরেই এগুলো ঝুলে পড়ে এবং নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো আমরা আনতে চাইনি। প্রধানমন্ত্রী উন্নতমানের মানসম্মত ট্যাক্সি সার্ভিস বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিতে চেয়েছেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬০০ ট্যাক্সি ক্যাব আনা হবে। এরমধ্যে দেড়’শ হচ্ছে চট্টগ্রামের জন্য। ঢাকায় ইতিমধ্যে আড়াইশ থেকে তিন’শ চলে আসছে। চট্টগ্রামে ৫০টি ট্যাক্সি ক্যাব দিয়ে আজকে যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করছি ডিসেম্বর নাগাদ চট্টগ্রামে ১৫০টি ট্যাক্সি ক্যাব নামবে। চাহিদা বাড়লে পরবর্তীতে এ ট্যাক্সি ক্যাবের সংখ্যা আরো বাড়াবো। চট্টগ্রামের মতো সিটিতে ১৫০ ট্যাক্সি ক্যাব যথেষ্ট নয়। এই ট্যাক্সি ক্যাবগুলো ১৫০০সিসির। ট্যাক্সি ক্যাব চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণকে নতুন সুবিধা দিবে এবং তারা খুব লাভবান হবেন।

সেতু মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অবারিত সম্ভাবনার দুয়ার আমরা খুলতে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটা অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং টুরিজমের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন সূচনা করেছি। কর্ণফুলী টানেল, সোনাদিয়া সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়িতে পাওয়ার প্ল্যান্ট এসব পরিকল্পনাগুলো অচিরেই বাস্তবায়িত হবে।

তিন পার্বত্য জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন সূচিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে করার মতো তেমন রাস্তা আর নেই। পার্বত্য জেলাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে পর্যটনের নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদের উন্নয়নে সেনাবাহিনী সীমাহীন পরিশ্রম করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার চিত্র আসলে সুখকর নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিবহনে এখনো বিশৃঙ্খলা আছে। এখনও চালকরা ফ্রি স্টাইলে গাড়ি চালায়। রং সাইড দিয়ে গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে। পথচারীরাও বেপরোয়া, চালকরাও বেপরোয়া। এরপর নতুন যন্ত্রণা যুক্ত হয়েছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলো। একনেক সভায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ করে এগুলোর উৎস মুখ বন্ধ করতে হবে। ঈদের সময় যত দুর্ঘটনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয়েছে ঈদের পরে। বেশিরভাগই হয়েছে এসব ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ও ভটভটির কারণে। চট্টগ্রাম শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সচেতনতা তৈরিতে পদক্ষেপ নিতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, বিলবোর্ডের জন্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় দেখা যায় না, নদী দেখা যায় না, সুন্দর আকাশ দেখা যায় না, রিমঝিম বৃষ্টি দেখা যায় না। এই বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে উদ্যোগ নিতে হবে। না হয় একসময় চট্টগ্রাম শহরকেই দেখা যাবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ঢাকায় ক্লান্ত হয়ে গেলে চট্টগ্রামে চলে আসি। একটু শান্তির জন্য। প্রশান্তির জন্য। চট্টগ্রাম আমাদের মায়াবী শহর। সেই চট্টগ্রাম দিনে দিনে কি রকম নোংরা ময়লা, আবর্জনার ঢিবিতে পরিণত হচ্ছে। “মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে যখন চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতাম মনে হতো ইউরোপের কোন শহরে প্রবেশ করছি। চট্টগ্রাম আর সেই সৌন্দর্য নেই। সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। চট্টগ্রামের যেখানেই যায় আবর্জনা, খানাখন্দ ভরা রাস্তা। এ অবস্থার অবসান করতে হবে।”

তিনি বলেন, যদিও সিটির রাস্তাগুলো আমার নয়। যদি মাননীয় নেত্রী এ ব্যাপারে কোন দায়িত্ব দেন সিটি কর্পোরেশনকে আমি সহযোগিতা করতে পারবো। আমি কারো বিরুদ্ধে কোন শত্রুতামূলক কিংবা বিদ্বেষমূলক কথা বলতে আসিনি। এটুকু বলবো চট্টগ্রামকে আমরা প্রাচ্যের রানী এবং সৌন্দর্যের রানী হিসেবে দেখতে চাই। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ২৪পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ ও ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল একেএম মুজাহিদ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহীদুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামে টয়োটা ব্র্যান্ডের জাপানে নির্মিত ১৫০০ সিসির ৫০টি ট্যাক্সিক্যাব পরিচালনা করবে। প্রথম দুই কিলোমিটার ভাড়া ৮৫টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৩৪টাকা। প্রতি দুই মিনিট যাত্রাবিরতি জন্য যাত্রীকে সাড়ে আট টাকা গুনতে হবে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ