বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিননগরীতে রেল লাইনের দু’পাশে গড়ে ওঠা প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর উচ্ছেদ

নগরীতে রেল লাইনের দু’পাশে গড়ে ওঠা প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর উচ্ছেদ

নগরীর দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে রেল লাইনের দু’পাশে গড়ে ওঠা প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। একই অভিযানে টাইগার পাস এলাকার রেলওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে রেলের জায়াগায় নির্মিত প্রায় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালতের এ উচ্ছেদ অভিযান চলে।  ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুল ইসলাম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই একদিকে মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে শাবল-খুন্তি নিয়ে শ্রমিকদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। অভিযানের শুরুতে রেলওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনের গলিতে নির্মিত দোকানগুলো এবং পরে রেল লাইনের দু’পাশের খুপরী ঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়। রেল লাইনের খুপরিগুলো ভেঙে দেওয়া হলেও ভাঙা অংশগুলো নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছে বাসিন্দারা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুল ইসলাম বলেন, দেওয়ান হাট ও টাইগার পাস এলাকায় রেলের জায়গায় নির্মিত সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।  কিছু স্থানে দোকানের মালামাল ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে জায়গা দখল করা হয়েছে। এসব মালামাল সরিয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পক্ষে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন  জানান, রেলওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠের পূর্ব প্রবেশমুখ পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে।  অবৈধ দখলে থাকা এসব জমির পরিমাণ প্রায় তিন একর। পরবর্তীতে উচ্ছেদকৃত জায়গায় দখল ঠেকাতে কোন প্রস্তুতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রকৌশল দপ্তরের। তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে রেললাইনের দু’পাশে নিরাপত্তা বেস্টনি দিয়ে ঘেরাও করা এবং গাছ লাগানোর কথা বলা হয়েছে।  তারা আজ (মঙ্গলবার) বিকাল থেকেই সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করবেন।

রেলের বেদখলে থাকা বাকি জমিগুলোতেও ক্রমান্বয়ে অভিযান চালানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। অভিযানে অংশ নেওয়া বিভাগীয় উপ ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন  জানান, উচ্ছেদের জন্য কয়েকদিন আগে থেকেই এ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ফলে, অনেকেই সোমবার রাতে নিজেদের মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। যার কারণে উচ্ছেদে চালাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের ৮৪ জন সদস্য, রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ২৫ জন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ১০ জন সদস্য অংশ নেয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ