শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে দৌরাত্ম বেড়েছে সিএনজি ও প্যাডেলচালিত রিকশার

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে দৌরাত্ম বেড়েছে সিএনজি ও প্যাডেলচালিত রিকশার

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের পর থেকে দৌরাত্ম বেড়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা চালকদের। যাত্রীদের সঙ্গে অমার্জিত আচরণ ও দ্বিগুন ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শেষের দিকে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু করে। এরপর থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের দৌরাত্ম কমে আসে। কম ভাড়ায় ও স্বল্পসময়ে যাতায়াত করতে পারায় ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রতি ঝুঁকে পড়ে নগরবাসী। কিন্তু দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিরুপ প্রভাব পড়ে।

পরবর্তীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকরা সিটি করপোরেশনে লাইসেন্সের আবেদন করে। কিন্তু সিটি করপোরেশন ম্যানুয়েল ও মোটরযান আইনে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় তাদেরকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। গত জানুয়ারিতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে। এতে অভিযোগ করা হয়, তাদের অনুমতির আবেদন সিটি কর্পোরেশনগুলো নিষ্পত্তিই করে না।

রুল জারির পর তাদের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে সিটি কর্পোরেশন হাই কোর্টকে জানায় বিদ্যমান আইনে এ ধরনের রিকশা চলাচলের অনুমতি দেয়া করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। গত ৩ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। ৩১ আগস্ট থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পুলিশ। প্রথমদিন ৬৭টি রিকশা আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। অপ্রতুল প্যাডেলচালিত রিকশা চালকদের কদর বেড়েছে। সুযোগ বুঝে তারাও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন। সিএনজি অটোরিকশার চালকরা আরো বেপরোয়া। তারাও যাত্রীদের সঙ্গে অমার্জিত আচরণ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ী জিয়াউল হক বলেন,‘বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া নিত ২০টাকা। এখন প্যাডেলচালিত রিকশা চালকরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে।’ রবিউল ইসলাম বলেন,‘চকবাজার গণি বেকারী মোড় থেকে কাজির দেউড়ী ভাড়া ২০টাকা। এখন প্যাডেলচালিত রিকশা ৪০টাকার কমে যেতেই চাই না। দরদাম করতে চাইলে উল্টো হম্বিতম্বি শুরু করে।’ জামালখান এলাকার গৃহিণী সাদিয়া ইসলাম বলেন,‘ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সিএনজি অটোরিকশা চালকরা এখন দ্বিগুন ভাড়া দাবি করছে। দরদাম করতেও রাজি নয় তারা। উল্টো খারাপ ব্যবহার শুরু করে।’

চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশামালিক পরিষদের সভাপতি ছিদ্দিক মিয়া বলেন,‘বাংলাদেশে তো কোন ভাড়ার নীতিমালা নেই তাই সুযোগ পেলেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে চালকরা। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কোনভাবেই যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করে সেটি নিয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন,‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগটি শুনেছি। বিষয়টি আমাদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে বসে ভাড়ার তালিকা তৈরি করা অথবা মিটার সংযুক্ত করা। যাতে করে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে।’

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ